পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র সক্রিয় -ওবায়দুল কাদের

0

মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি : বিএনপিকে ‘বাংলাদেশ নালিশ পার্টি’ মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিদেশিদের কাছে নালিশ দেওয়া ছাড়া বর্তমানে বিএনপি’র আর কোনও কাজ নেই। বিএনপির আন্দোলনে এখন আর কোনও জোয়ার আসে না।

তিনি পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র সক্রিয় আছে উল্লেখ করে সন্তু লারমা’র উদ্দেশ্যে বলেন, উস্কানিদাতাদের প্রশ্রয় দেবেন না। শান্তি চুক্তি আওয়ামীলীগ সরকার করেছে, বাস্তবায়নও আওয়ামীলীগ সরকার করবে। এজন্য কোনও আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এখনো এখানকার অশান্তির মূল কারণ হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। অবৈধ অস্ত্র দিয়ে শান্তি সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বুধবার রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে এক গণসংবর্ধনা ও কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। রাঙামাটি পৌর প্রাঙ্গণে এসভা অনুষ্ঠিত হয়।পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র সক্রিয় -ওবায়দুল কাদের

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, শান্তি চুক্তি রাতারাতি হয়ে যায়নি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে শেখ হাসিনা সরকার শান্তি চুক্তি করেছে। এরশাদ থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার সরকার চুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু কেউ সফল হয়নি। একমাত্র হাসিনা সরকারই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। এখন চুক্তি নিয়ে দেখা যায়, মায়ের থেকে মাসির দরদ বেশি।

তিনি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার উদ্দেশ্যে বলেন, চুক্তি নিয়ে কোন সমস্যা হলে টেবিল আছে। আমরা টেবিলে বসে কথা বলতে পারি। চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা আসলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করুন। দেখা করতে কোনও বাধা আসলে আমাকে বলুন। আমিই সব ব্যবস্থা করবো। তার জন্য আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। তিনি সন্তু লারমার উদ্দেশ্যে বলেন, অশান্তি সৃষ্টির উস্কানিদাতাদের প্রশ্রয় দেবেন না। পাহাড়ে আর রক্ত চাই না, এখানে অনেক রক্ত ঝরেছে।

তিনি তাঁর উদ্দেশ্যে আরো বলেন, পাহাড়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেছেন। চুক্তির আগে আপনার সাথে দেখা করার জন্য পানছড়ির দুর্গম দুদুকছড়ায় গিয়েছিলাম। আপনার কষ্ট দেখেছি। সেই আপনাকেই প্রধানমন্ত্রী গাড়িতে দেশের পতাকা তুলে দিয়েছেন। তিনি আপনাকে যে সম্মান তুলে দিয়েছেন, তা ধরে রাখার দায়িত্ব আপনার।

তিন পার্বত্য জেলার মানুষের ভালবাসার মাধ্যমে আপনি সেই সম্মান বজায় রাখবেন বলে আশা রাখছি। তিনি চুক্তির বিষয়ে বলেন, সমাধানের জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। অধৈর্য হলে কোনও কিছু পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অবৈধ অস্ত্র দিয়ে শান্তি স্থাপন সম্ভব নয়। তিনি এসময় রাঙামাটির বিভিন্ন উন্নয়ন কাজগুলো তুলে ধরেন।

ওবায়দুল কাদের সমাবেশ শেষে দুপুরেই বান্দরবানের উদ্দেশে রাঙামাটি ত্যাগ করেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.