সিটিনিউজবিডি : দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত শেষে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
রোববার (১১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত একটার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে একই জায়গায় তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পুনঃময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর একইদিন বিকেলে চট্টগ্রাম উদ্দেশ্যে রওনা দেয় দিয়াজের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছে।
সিআইডির চট্টগ্রাম জোনের এএসপি অহিদুর রহমান ও দিয়াজের পরিবারের উপস্থিতিতে রাত ১টার দিকে একই জায়গায় মরদেহ দাফন করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডি’র চট্টগ্রাম জোনের এএসপি অহিদুর রহমান বলেন, রোববার রাত একটার দিকে দিয়াজের মরদেহ দাফন করা হয়। । দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তে দিয়াজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ। সোহেল মাহমুদ সহ একই বিভাগের প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস ও কবির সোহেল এই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলনের পর দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে আনা হয়। এসময় চট্টগ্রাম সিআইডি বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন মরদেহ বহনকারী গাড়ির সঙ্গে ছিলেন।
গত ২০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট এলাকার নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো অবস্থায় দিয়াজের মরদেহ পাওয়া যায়। রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
২৩ নভেম্বর দিয়াজের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে দিয়াজের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত কারণে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরিবার সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে আদালতে হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দিয়ে পুনরায় তার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করার নির্দেশ দেন।
এই নির্দেশের ফলে শনিবার সকালে দিয়াজের মরদেহ কবর থেকে তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায় মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি।
