সিটিনিউজবিডি : গত ১৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভা-ারীয়ার উদ্যোগে এবং মাইজভা-ার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভা-ারী মাদ্দাজিল¬ুহুল আলীর নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকায় ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষ্যে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে জশনে জুলুস ও শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে জশনে জুলুস (ধর্মীয় শোভাযাত্রা) বের হয়ে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শান্তি মহাসমাবেশে মিলিত হয়। কলেমা তৈয়াবা, জাতীয় পতাকা, আন্জুমানের পতাকা এবং নানা ধরনের বাণী ও স্লোগান লিখিত ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে সারা দেশ থেকে আগত লাখো নবী-ওলীপ্রেমী জনতা জশ্নে জুলুসে অংশ নেন।

নারায়ে তাকবির, নারায়ে রেসালাত ও গাউসিয়তের ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ। আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) বলেছেন, সূফীবাদ হল শান্তি সম্প্রীতি ও মানবিক দর্শন। ইসলামের প্রকৃত চর্চা ও অনুশীলনে সূফীবাদই সঠিক পথ। তাই, আইএস, আল কায়েদাসহ বিভিন্ন নামে বিশ্বে ত্রাস সৃষ্টিকারী জঙ্গিরা কখনো ইসলামের অনুসারী হতে পারে না। ওদের বড় পরিচয় ওরা সন্ত্রাসী, খুনি ও দুর্বৃত্ত। এদের কারণেই ইসলাম ও মুসলমানদের বদনাম হচ্ছে। এদের উত্থান রুখে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধভাবে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য একমাত্র উপায় সূফীবাদের প্রচার-প্রসার বেগবান করা।
তিনি মদিনা সনদের অনুসরণে অসা¤প্রদায়িক উদার মানবিক দেশ ও বিশ্ব গড়তে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বৈশ্বিক শান্তি ও জনস্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সকল দেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, মহানবী (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন জগৎবাসী ও মানবজাতির জন্য আল্লাহ পাকের বিশেষ অনুগ্রহস্বরূপ। তাই, কৃতজ্ঞতার শুকরিয়া হিসেবে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদ্যাপন করি। ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, কাশ্মির ও মিয়ানমারের নিপীড়িত মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে তিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন ও শক্তিধর দেশগুলোর শাসকদের প্রতি আহ্বান জানান। সংখ্যালঘু নিপীড়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান। জশ্নে জুলুস ও শান্তি মহাসমাবেশে দেশের নানা এলাকা থেকে আসা অসংখ্য লোকজন ছাড়াও আমেরিকা, মরক্কো, ঘানা, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তিউনিশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষকগণ অংশগ্রহণ করেন।
কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। শান্তি মহাসমাবেশে উদ্বোধক ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের এমপি। প্রধান অতিথি ছিলেন, শিল্প মন্ত্রাণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আমির হোসেন আমু এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব এনামুল হক শামীম, শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, শাহজাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন।
অনুষ্ঠানে আন্জুমান কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ আলমগীর খান ও মুফতী বাকী বিল্লাহ আল্-আযহারীর সঞ্চালনায় অতিথি ও আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম খান, ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ওয়েজ দানবী, মরক্কো থেকে আগত ড. আজিজ ইদ্রিসি, ইউক্রেন থেকে আগত মুফতী আহমদ তামিম, ইন্ডিয়া থেকে আগত মো: আব্বাস নিয়াজী, সিঙ্গাপুর থেকে লেয়াকত আলী বিন মো: ওমর, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ড. শেখ আহমদ তিজানী বিন ওমর, মালেশিয়া থেকে আগত শেখ ইসমাইল বিন কাশিম, তিউনিশিয়া থেকে আগত মাজেন শেরিফ, ড. খালেদ চৌকেট প্রমুখ।
উদ্বোধনীর বক্তব্যে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যতোই সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্ত করা হোক, তা কখনো সফল হবে না। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদিদের ঠাঁই হবে না। সূফী-দরবেশদের এই দেশ থেকে যেকোনো মূল্যে জঙ্গিবাদিদের প্রতিহত করা হবে। মন্ত্রী মাইজভা-ারী মহাত্মাদের অনুসরণে অসা¤প্রদায়িক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথি মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশ একটি অসা¤প্রদায়িক দেশ। এখানকার জনগণ সূফীবাদি মানবিক ইসলামে বিশ্বাসী। ইসলামের শান্তিবাদি দর্শন সূফীবাদি চিন্তার মানুষেরাই অনুসরণ করে আসছেন। তিনি জঙ্গিবাদ নির্মূলে মানবিক দর্শন সূফীবাদকে সর্বস্তরের ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত তারা ইসলামের পথ থেকে বিচ্যুত। নবী-ওলীদের পথেই ইসলামের পথ। যেকোনো মূল্যে এ পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে। সব শেষে সালাত সালাম শেষে দেশ, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-কল্যাণ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)।
