নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দনাইশ : চন্দনাইশ পৌরসভা অডিটোরিয়ামের টেন্ডার নিয়ে চলছে হোলিখেলা। সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চন্দনাইশ পৌরসভা অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজটি পেতে সরকারি দলের সমর্থকরা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। যেভাবে হোক কাজটি পেতে চায় নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে। বিপাকে পড়েছে নির্বাচিত মেয়র মাহবুল আলম খোকা।
সম্প্রতি চন্দনাইশ পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর পৌরসভার সবকটি ওয়ার্ডে সড়ক, কালভার্ট, রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি একটি শহিদ মিনার নির্মাণসহ ১১টি প্রকল্প গত ১ জানুয়ারি ঠিকাদারদের লটারীর মাধ্যমে কার্যাদেশ দেয়া হয়। সে সাথে চন্দনাইশ পৌরসভায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে পৌরসভা অডিটোরিয়াম। এ কাজটি পাওয়ার জন্য ২৪টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ফরম সংগ্রহ করেন। তৎ মধ্যে ২০টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাদের ফরম জমা করেছেন। গত ৫ জানুয়ারি জমাকৃত ফরমের টেন্ডার বক্স খোলা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি বলে জানা যায়। তবে এ কাজটি পাওয়ার জন্য সরকারি দলের সিনিয়র বেশকিছু নেতা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মাহবুবুল আলম খোকা বলেছেন, ২৪টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ফরম সংগ্রহ করলেও ২০টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার ফরম জমা দেন। গত ৫ জানুয়ারি টেন্ডার বক্স খুলে তিনি নিজের আয়ত্বে রেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি ফরমে ৩৬৫টি কলাম পূরণ করতে হয়। তাছাড়া টেন্ডার ওপেনিং ও টেকনিক্যাল ২টি পৃথক কমিটি রয়েছে। ওপেনিং কমিটিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী, টেকনিক্যাল কমিটিতে উপজেলা প্রকৌশলীসহ ৫ জন করে সদস্য রয়েছে। আজ-কালের মধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের নিয়ে টেন্ডার ফরম ওপেন করা হবে। প্রয়োজনে ঠিকাদারদেরকেও যাচাই বাছাইয়ে ডাকা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যাচাই বাছাই শেষে বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন দরদাতাকে ঠিকাদার নিয়োগ করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আ’লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাঁকে বিভিন্নভাবে কার্যাদেশ দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা নিজেদের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ব্যবহার না করে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডার ফরম জমা করে তদবির করছেন বলে জানা যায়। তবে তিনি নিয়মের বাইরে কোনভাবেই কিছু করবেন না বলে জানান।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এলডিপির কয়েকজন নেতার প্রতিষ্ঠানের নাম ফরম জমা দিয়েছেন বলেও জানান। ফলে বিপাকে পড়েছেন মেয়র মাহবুল আলম খোকা। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোবারক হোসেন বলেছেন, তিনি ওপেনিং কমিটিতে রয়েছেন। যাচাই বাছাই কমিটিতে তাঁকে ডাকা হলে তিনি জানান। তবে কান রকম ভিন্নতা থাকলে তিনি স্বাক্ষর করবেন না বলে জানান। তাছাড়া পিবি এ্যাক্ট অনুযায়ী টেন্ডারের সকল কার্যক্রম পরিচালিত করা হবে বলে তিনি জানান।
২০টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশকিছু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা বুঝাপড়ার মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগিতে অংশ নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন অনেকেই। তবে ছাড় দিতে নারাজ বর্তমান সরকারের দুটি শক্ত গ্রুপ। যাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক নেতা সহ অনেক নেতৃবৃন্দ। তবে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সে সাড়ে ৬ কোটি টাকার কাজ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
