লায়ন ডাঃ বরুণ কুমার আচার্য বলাই–
শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুরাই জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামীতে দেশ সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করবে শিশুরাই। তাই শিশুদেরকে মনন মেধায় শক্তিশালী করে গড়ে তুলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শিশুদের বিপদগামী থেকে রক্ষার জন্য পিতা-মাতা ন্যায়ে পাড়া প্রতিবেশি ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র এই বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হলে দেশে নীতিনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন নাগরিকতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
মাইজভান্ডারী একাডেমী, গাউছিয়া হক কমিটি, গাউছিয়া হক মঞ্জিল, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম “নানান ভাবে নতুন জিনিস শিকছি দিবা রাত্র” এই শ্লোগানে মুখরিত ১০ম শিশু-কিশোর সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০১৭ পালনের ব্যাপক কর্মসূচী চলছে। মাইজভান্ডারী একাডেমী সৎ, ধার্মিক, ন্যায়-নীতি ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় শিশু-কিশোর সমাবেশ এর আয়োজন সত্যিই প্রশংসার ও দেশ গড়ার কাজে উৎসাহ দিচ্ছে। শিশুদের একত্রিত করে পবিত্র মনে তাদের চিন্তা চেতনা ও ধার্মিকতার মাধ্যমে আগামীর পথ চলাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।
আলোকিত পৃথিবীর মাইজভান্ডারী ত্বরিকার প্রবর্তক গাউসুর আযম হযরত মাওলানা শাহসূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)’র বার্ষিক ওরশ উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের মাইজভান্ডারী ত্বরিকা সম্পর্কে জ্ঞান ও ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে এই যাত্রা। আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে শিশু-কিশোরদের নিয়ে এই পবিত্র যাত্রা শুরু হয়। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারী নাসিরাবাদ বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ শিশু-কিশোর সমাবেশ সু-সম্পন্ন হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মাইজভান্ডারী চিন্তা চেতনা, ধর্ম তত্ত্ব, সুফিবাদ অতিসহজে আমাদের শিশু-কিশোররা শ্রবণ ও অনুদাবন করতে পারবে।
এর মাধ্যমে আমাদের জাতি হবে জ্ঞান সম্পন্ন ও শক্তিশালী। মাইজভান্ডারী চিন্তা চেতনা ও ধর্ম তত্ত্ব অস¤প্রদায়িক। শুরু থেকে সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.) ও বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) এই চেতনাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আজও সমগ্র বিশ্বে মাইজভান্ডারী ত্বরিকা অস¤প্রদায়িক হিসেবে পরিচিত। শিশু-কিশোরদের অন্তর পবিত্র মনের। শিশুদের সাথে ফুলের সাথে তুলনা করা হয়। দ্বীন ইসলামের প্রবর্তক হযরত মহানবী মুহম্মদ (দঃ) শিশুদের পবিত্র মননে শৈশব থেকে গড়ে তোলার গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
সেই বিষয়ে কোরআন ও পবিত্র হাদিসে বিশাদ বর্ণনা করা হয়েছে। যুগে যুগে নবী রাসূল ও মহামানবগণ শিশুদের উন্নত চরিত্রে গঠনে পিতা-মাতাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) এক বাণীতে বলা হয়েছে “শিশু-কিশোরদের দরবারে আনা-নেওয়া ভাল। এতে তাদের আদব আখলাক বুঝ জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে”।
আমরা শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) এই বাণী থেকে সহজে বুঝতে পারি আমরা, শিশুদের কিভাবে, কি দায়িত্ব বোধের মাধ্যমে বড় করতে হবে। তিনি দরবারে শিশুদের আনার বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন আদব আখলাক বুঝ জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে বলে বলেছেন। এই থেকে বুঝা যাই দরবার শরীফে শিশুদের আগমনে দরবার থেকে উন্নত চরিত্রের অধিকারী কিভাবে হবেন তার একটি নমুনা সেখান থেকে পাবে।
আমাদের সকলের উচিত আমাদের শিশুদের আদব কায়দার মাধ্যমে পবিত্র দরবারে দিকে তাদেরকে ধাবিত করা। কারণ দরবার হচ্ছে আমাদের জীবন মানস ইহকাল-পরকালের মুক্তির ঠিকানা। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ সেই পবিত্র মননে শিশু, যুবক, নর-নারী সকলের মুক্তির জন্য এর অবাদপ্রবাহ। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ ও মাইজভান্ডারী ত্বরিকা সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে অনেক গ্রন্থ ও পুস্তক বের হয়েছে। সেই বইয়ের মাধ্যমে শিশু-কিশোররা এই ত্বরিকা সম্পর্কে সহজে জানতে পারে।
সবার আগে প্রয়োজন নীতিনৈকতা আদর্শ সম্পর্কে জানা। আমাদের ছেলে-মেয়েরা সহজে মাইজভান্ডার পবিত্র পথকে সহজে চিনতে পারবে গ্রন্থের সহায়তায়। গাউসুল আযম আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.) এর কারামত সম্পর্কে গ্রন্থে উল্লেখ আছে –
“আমার গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী
কি শান দেখাইল
বাঘের মুখে লোটা মেরে
আশেক বাঁচাইল”
এই কারামতটি সহজে আমাদের মানস সমুখে উঠে আসে গ্রন্থ ও গীতের মাধ্যমে। একটি গ্রন্থ পাঠে মানুষ অনেক উপকার ও অপকার সহজে বুঝতে পারে। একটি গীতও অনুরুপ ভাবে মানুষকে সহজে বুঝার শক্তি যোগায়। আমাদের শিশু-কিশোরদের মাঝে সেই রকম মাইজভান্ডারী ত্বরিকার কারামতগুলো গ্রন্থ ও গীতে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই ত্বরিকার মাধ্যমে মানুষ আরো উপকার ভোগ করবে।
সহজে ইহকাল ও পরকালের মঙ্গল লাভ করতে পারবে। মাইজভান্ডারী সঙ্গীত ও জিকির গুলো ছেমার মাধ্যমে মানুষকে আরো কাছে থেকে কাছে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে শিশুদেরকে ছেমাগুলো শ্রবনের সুযোগ করে দিতে হবে। গীতে গীতে শিশুদের মাইজভান্ডারী ত্বরিকা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। হাতে কলমে এই পবিত্র ত্বরিকা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। প্রয়োজনে সাধারণ জ্ঞন ভিত্তিক শিশুদের পাঠ্যশ্রেণিতে মাইজভান্ডারী ত্বরিকা সম্পর্কে পুস্তকের মাধ্যমে শিশুদের জানাতে হবে। এভাবে যদি ধারাবাহিক মাইজভান্ডারী ত্বরিকার মর্মময় বাণীগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় তাহলে মানুষ পরকালের আজাব থেকে মুক্তি পাবে।
গত বছর ৯ম মাইজভান্ডারী শিশু-কিশোর সমাবেশে খ্যাতিনামা শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিকী বলেছিলেন “এই পবিত্র মাইজভান্ডারী সমাবেশ চালু রাখুন, শিশু-কিশোরদের আজকের এই উপস্থিতি একদিন বর্ষীয়ান মাইজভান্ডারী ঐতিহাসিক সমাবেশে রূপনেবে। এতে করে মাইজভান্ডারী ত্বরিকার সান মান বৃদ্ধি পাবে। মাইজভান্ডারী ত্বরিকার মাধ্যমে মানুষ কল্যানের গান গাইবে। নিজের জীবনকে পবিত্র মননে সহায়তা ও সহায়ক হবে এই ত্বরিকা। আমি এই সমাবেশের সফলতার মাধ্যমে আজকের শিশুরা উন্নত বিশ্বের ন্যায়ে কল্যাণকামী আদর্শ নাগরিক হোক এই কামনা করি”।
লেখক: মরমী গবেষক ও প্রাবন্ধিক
