মো.ছাদেকুর রহমান সবুজ,বোয়ালখালী::বিংশ শতাব্দীর ১৯১৭ সালে বোয়ালখালী উপজেলার কধূরখীল গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় কধুরখীল উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়। এর মধ্যে দিয়েই সূচিত হয় কধুরখীল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের।
প্রাণকৃষ্ণ চৌধুরী কধুরখীল উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য পার্বতীচরণ দীঘির পাড়ে জমি দান করেন। বিদ্যালয়ের ভবন নিমার্ণ ও ব্যয় নির্বাহের অর্থ যোগানে এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ১৯১৭ সালের ১০ অক্টোবর কধুরখীল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দক্ষ পরিচালনায় এলাকাবাসীর আন্তরিক চেষ্ঠায় আজ এ সমিতি শতবর্ষে পা রাখলো।
এ সমবায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন সমাজ হিতৈষী বিধু ভূষণ চৌধুরী, শচীরাম চৌধুরী, গগন চন্দ্র দাস, সুরেন্দ্র লাল দাস, যোগেশ চন্দ্র দত্ত, মণীন্দ্র লাল দাস, বস্কিম চন্দ্র আইচ, রাস মোহন দাস, অনুকুল চন্দ্র দাস, তারা চরণ পারিয়াল, বিপিন বিহারী দাস, ভগবতী প্রসন্ন চৌধুরী, রোহিনী রঞ্জন মজুমদার, হেমচন্দ্র চৌধুরী ও উমেশ চন্দ্র দত্ত।
জানা যায়, ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে গ্রামের অনুকুল চন্দ্র দাসের বৈঠক খানায় এ সমবায় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সমিতির প্রথম সভাপতি বিধু ভূষণ চৌধুরী ও শহীদ বঙ্কিম চন্দ্র আইচ ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। প্রতিষ্ঠা সময় নামছিল কধুরখীল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক লিমিটেড।
১৯২৮ সালের জুলাই মাসে যোগেশ চন্দ্র দত্তের বৈঠক খানায় সমিতির দপ্তর স্থানান্তর করা হয়। যা ১৯৩৫সাল পর্যন্ত চলে কার্যক্রম। ১৯৩৫ সালে সুরম্য নিজস্ব দ্বিতল সমবায় ভবন নির্মিত হলে ব্যাংকের কার্যক্রম আবারো স্থানান্তর হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব, ভারত বিভাগ ও পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার আমলে স্থবির হয়ে পড়ে সমিতি। তবে ওই সময় কধুরখীল জনসাধারণ পাঠাগারের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় সমৃদ্ধ এ পাঠাগার লুণ্ঠন করে পুড়িয়ে দেয় অসংখ্য মূল্যবান বই।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুনভাবে সমিতি উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন পরিচালনা পর্ষদ। ১৯৭৪ সালে সোসাইটির সহযোগিতায় টেলিফোন একচেঞ্জ স্থাপিত হয় বোয়ালখালীতে। ফলে যোগাযোগ মাধ্যমে এগিয়ে যায় বোয়ালখালী।
আশির দশকে বাংলাদেশ সরকার সমবায় মাধ্যমে গ্রাম উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তৎকালীন সম্পাদক প্রয়াত ননী গোপাল চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ প্রয়াত পুলিন বিহারী আইচ এর সুদক্ষ পরিচালনায় সোসাইটির নুতনভাবে গতি সঞ্চার হয়। এরপর সভাপতি হন অমিয় গোপাল চৌধুরী। তাঁর মেয়াদকালে ব্যক্তিগত জামিনে ঋণ প্রদান, কুঠির শিল্প স্থাপনে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান ছিল উল্লেখ যোগ্য কার্যক্রম।
১৯৮৪ সালে সভাপতি হিসেবে প্রয়াত হরিপদ চৌধুরী ও সম্পাদক পুলিন বিহারী চক্রবর্তী সমিতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে রনজিত কুমার চক্রবর্তী, অধ্যাপক প্রকৃতি রঞ্জন চক্রবর্তী, অরুন বিকাশ বিশ্বাস, স্বপন কুমার চৌধুরী, বাদল বিকাশ দাশগুপ্ত দক্ষতা সততার মাধ্যমে সমবায় সমিতির দায়িত্ব পালন করেন।
সুদক্ষ পরিচালনার ফলশ্র“তি ও ১৯৯১ সরকার শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে ঘোষণা করেন কধুরখীল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডকে। এ সমিতি এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।
সমিতির সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে হরিপদ চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি, হরিরঞ্জন স্মৃতি বৃত্তি, সুধাংশু বিমল চৌধুরী বৃত্তি, পুলিন বিহারী চৌধুরী বৃত্তি, খগেন্দ্র লাল দেওয়ানজী স্মৃতি বৃত্তি, সুধীর রঞ্জন চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি, কেশব চন্দ্র চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি, মনীন্দ্র লাল চক্রবর্তী স্মৃতি বৃত্তি, আশলতা চক্রবর্তী স্মৃতি বৃত্তি ও রণেন্দ্র লাল চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি পুরস্কার প্রদান করা হয় প্রতি বছর।
বিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে জন্ম নেয়া এ সমিতি একবিংশ শতাব্দীর আগামীকাল শুক্রবার থেকে দুইদিনব্যাপী উদযাপন করা হবে শতবর্ষ।
এএম
