কোলাহল পরিহারে, নির্জনতার আসরে : হযরত দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)
লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই–
অছিয়ে গাউছুল আযম হযরত দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)স্মরণেঃ
কোলাহল পরিহারে, নির্জনতার আসরে
তোমারই প্রতীক্ষায় রহিয়াছি, তোমারই বাসরে
সাহাবা যুগের পর কামেল সূফীদের লিখিত গ্রন্থে সৃষ্টিধারা সম্পর্কে আরো জানা যায় প্রথম সৃষ্টি নূরে আহমদীকে আল্লাহ্ সবুর আকারে ‘সজুরাতুল একীন’ বিশ্বাস বৃক্ষে স্থাপন করেন। অনন্ত অসীম জুড়ে ছিল বিশ্বাস বৃক্ষের বিশালতা। লক্ষ কোটি বছর ধরে আহমদী নূরের প্রশংসায় মুগ্ধ সৃষ্টিকর্তা আপন প্রভুত্বের আয়না সে নূরের সামনে ধরলে আনন্দঘন লজ্জায় যে ঘাম ঝরে তাতে সয়লাব হয়ে যায় তখনও অগঠিত সাত স্তর আকাশ ও সাত স্তর পৃথিবীর সীমা জুড়ে। অতঃপর ‘আহসানে তাকবিম’ সেই উত্তম কাঠামোর নূরী মানবের পায়ের পাতার উপরের গিরা হতে ঘামে সৃষ্ট জলরাশিতে নেমে আসে প্রথম আলোকধারা। ফলে পানি গরম হয়ে যে বুদবুদ সৃষ্টি হয় তা হতেই বাতাস ও মাটির সৃষ্টি শুরু।
যেই স্থান প্রথম আলোর পরশ নেমে আসে। এটা জগতের মধ্যস্থান সেখানে পবিত্র কাবাঘর। হাকিকতে নূরে মোহাম্মদীর প্রতি সমর্পণে নানাজাতির সেজদার প্রথম কেবলাঘর, অনন্তকাল ধরে যার মর্যাদা সংরক্ষিত। আরবী ভাষায় “কাবা” শব্দের এক অর্থ পায়ের গিরা। এভাবে সৃষ্টি হয় মূর চার উপাদান- আলো, পানি, বায়ু ও মাটি। এসব উপাদানে নিত্য নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে জগত জুড়ে মোহাম্মদী প্রশংসাধারা নিরবধি চলছেই।
হাদীসে ও কুদমীতে আরও বর্ণনা আছে- “বান্দা নফল (অতিরিক্ত) এবাদতের দ্বারা আমার (আল্লাহ) দিকে অগ্রসর হতে থাকে যতক্ষন না আমি তাকে ভালবাসি এবং যখন আমি তাকে ভালবাসি তখন আমি তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে; আমি তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলে; আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শুনে” অর্থাৎ সাধকগণ এসব স্তরে পৌঁছে যান, যেখানে তার সমস্ত কাজ আল্লাহর হয়ে যায়। অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, “মুমিনের অন্তরই আল্লাহর আরশ বা সিংহাসন”। সুতরাং মুমিন অর্থাৎ অলি-আল্লাহ গণের অন্তরেই আল্লাহ আপন স্বভাবে বিরাজ করেন।
১৮১৬ইং গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) অর্ন্তচক্ষু, কশ্ফশক্তি অর্জন করেছেন। তাঁর গুরু হযরত সালেহ্ লাহোরী (রঃ) এর কাছ থেকে। এরপর দীর্ঘ দুইবছর নিজেকে তিনি লুকিয়ে রাখেন সাধারণ কাছ থেকে। ১৮৬৩ইং সনে তিনি সাধারণ ভক্তদের মাঝে নিজেকে প্রকাশ করেছেন এবং হুজড়া শরীফ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে মাইজভাণ্ডার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন অজপাড়া গাঁয়ের এই মাইজপাড়া গ্রামে। ভক্তদের মধ্যে যারা একটু বুঝদার তারা হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর কালামসমূহকে বুঝতে চেষ্ঠা করেন।
ধীরে ধীরে মুরিদ-ভক্ত ও শিষ্যদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অথচ এর আগে মাইজভাণ্ডার শরীফে কারও আসা-যাওয়া ছিল না। ধীরে ধীরে এর রওশন বাড়তে বাড়তে আজকের এই মাইজভাণ্ডার শরীফ বিশাল মহীরূহ। তাঁর একমাত্র পুত্র সন্তান জনাব শাহ্ছুফী সৈয়দ ফয়জুল হক সাহেবের ২য় পুত্র মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) কে তিনি দেলা ময়না নামে ডাকতেন। তাঁকেই বেশী গুরুত্ব দিতেন। বড় নাতি শাহ্সূফী সৈয়দ মীর হাসান স্বল্পায়ু নিয়ে দুনিয়াতে তশরীফ এনেছিলেন।
বিশাল মইজভাণ্ডার শরীফের দায়িত্ব পালন করার জন্য মনোনীত ব্যক্তিত্ব অতীব প্রয়োজন। পনের বছরে আয়ু নিয়ে জন্ম নেয়া বড় নাতি হযরত সৈয়দ মীর হাসান সম্পর্কে তিনি একবার নাবালেগ হিসেবে সম্বোধন করেছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে যখন হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর শরীর মোবারক খারাপের দিকে যাচ্ছিল তখন একদিন জুমার নামাযের শেষে মহল্লার সরকদার ছায়াদ উদ্দিন হযজড় শরীফে এসে হযরতকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিণয় সহকারে বললেন, “হুজুর মানুষ মরনশীল। সবাইকে মরতে হবে। তাই বলছিলাম আপনার পরে এর গদী শরীফে আমরা কাকে দেখব? কাকে আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করব? আপনার বড় নাতি জনাব মীর হাসান তো নাবালেগ; দেলা ময়নাই বালেগ। দেলা ময়নাই গদীতে বসবেন”।
জনাব মীর হাসানকে নাবালেগ বলার রহস্য তখন কেউ বুঝতে পারেন নি। কিন্তু ১৯০৬ সালে হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ওফাতের মাত্র তেতাল্লিশ দিন পর অছি-এ-গাউসুল আযমের বড় ভাই সৈয়দ মীর হাসান ইহকাল ত্যাগ করেন। তখন সবাই হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর বলা নাবালেগ কথার তাৎপর্য বুঝতে পারলেন। হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) তাঁর অব্যাহতি পূর্বে হযরত দেলাওর হোসেন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) কে তাঁর গদী শরীফের উত্তরাধিকারী ও নিজ অছি মনোনীত করে বেলায়েতের অন্যতম মহা সম্রাটরূপে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) মূলত অছিয়ে গাউছুল আযমকেই খুব বেশী ভালবাসেন। আর একথা তিনি বারে বারে আত্মীয়-স্বজন-ভক্তবৃন্দ সবার মাঝেই পৌঁছে দিয়েছেন যে তাঁর নাতি দেলা ময়নাকে অতীব গুরুত্ব দিয়েই মানুষ করেছেন।
১৮৯৩ইং অছিয়ে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডার শরীফের আহমদিয়া মঞ্জিলে ভূমিষ্ঠ হন। তাঁর পিতা হযরত ফয়জুল হক ৩৭ বৎসর বয়সে ১৯০২ইং সনে দেহত্যাগ করেন। তাঁর বয়স তখন মাত্র ৯ বৎসর। বাল্যকালে পিতৃমাতৃ স্নেহ বঞ্চিত আদরের নাতি দেলাময়না দাদা-দাদীর আদরে বড় হতে থাকেন। বাড়ির ভিতর বাড়িতে তাঁর প্রকৃত দরদী অভিভাবক ছিলেন স্নেহময়ী দাদীজান। আর বাহির বাড়িতে হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ)। তিনি এতটা স্নেহ করতেন যে, সব সময় পাশে বসিয়ে রাখতে চাইতেন। তাঁকে ফেলে কোন ভাবার খেতে চাইতেন না। গৃহশিক্ষককের মাধ্যমে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। আপন খালুজান জনাব হাফেজ মওলানা সৈয়দ তফাজ্জ্বল হোসাইন সাহেব ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। গৃহশিক্ষকের নিকট প্রাথমিক লেখা-পড়া শেষ করে চট্টগ্রাম শহরের মোহছনিয়া মাদ্রাসায় পড়াশুনা শুরু করেন। ওখানে কোরআন, হাদীস, এজমা কেয়াছ ইত্যাদি যা সেখানে পড়ানো হয় সেখানে কারিকুলাম মতে সবশেষ করে মাদ্রাসার শেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
অছিয়ে গাউছুল আযম ব্যক্তিগত জীবনে কঠোর নীতি অনুসরণ করতেন। হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর তাঁর নীতি ছাড়া আর কারো কাছে মাথানত করেন নি। প্রতিষ্ঠা নিতে লেখাপড়া শেষ করে তিনি দরবারের খেদমতে নিজেকে নিয়োগ করেন। মূলত হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) প্রবর্তিত মাইজভাণ্ডারী দর্শনের রীতিনীতি ও মূল রহস্য মানুষের কাছে তুলে ধরতে তাঁর জীবনাদর্শ অনুশীলনের মাধ্যমে ও লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করে সফল হন। মাইজভাণ্ডারী দর্শন কি? তাহা বেলঅয়তে মোতলাকা গ্রন্থে ব্যাখ্যা করে গেছেন। ওটাই মূলত মাইজভাণ্ডারী দর্শনের সংবিধান। এ দর্শন এর সংবিধান মানলেই তবেই না অর্ন্তচক্ষু ও কশ্ফশক্তি পাবেন।
উসূলে সাবআ বা মুক্তির সপ্তপদ্ধতি সম্বলিত গাউছিয়ত নীতির ব্যাখ্যা করে গেছেন। ফলে সবাই বেলায়তে মোতলাকা ও উসূলে সাবআ এর গাউছিয়ত নীতি অবলম্বন করে সাধনা এর ধারা ঠিক রেখে সাধনা করেই মাইজভাণ্ডার শরীফ থেকে অর্ন্তচক্ষু ও কশ্ফশক্তি পেয়ে থাকেন। অছিয়ে গাউছুল আযম এটা অনেক বড় কাজ করেছেন বেলায়তে মোতলাকা গ্রন্থ লেখার কারনে। এতে সব তথ্য ও তত্ত্ব এমন সুন্দরভাবে ভেঙ্গে আলোচনা করেছেন যে, যে কারো বুঝতে কষ্ঠ হবে না। উসূলে সাবআ মুক্তির সপ্ত পদ্ধতি হল মুক্তির ও উন্নতির চুড়ান্ত পথ। এ পথ ধরেই উপরে উঠা। অছিয়ে গাউছুল আযম বিশ্বাস করতেন প্রথমে আল্লাহ পরে হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) তাঁর সহায় আছেন। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বলে কোন কাজ ধরলে আর পিছিয়ে যেতেন না।
হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর দেহত্যাগ করার পরে এবং অছিয়ে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (রঃ) পড়াশুনা শেষ করে বাড়িতে আসার পরে পারিবারিক দায়িত্ব বুঝে নেয়ার সময় এলো। তিনি দেখলেন এখানে মানতী জিনিষপত্র যা এসে থাকে তাহা থেকে মতলবী কিছু বাজে মানুষ গদী শরীফের আশেপাশে বসে থাকতো। ফলে ঐ মানতী তেকে তারা জিনিষপত্র নিয়ে নিত। দরবারে কোন সঞ্চয় থাকতো না তিনি ভাবলেন এভাবে চলতে দিলে মাইজভাণ্ডার শরীফের কোন উন্নতি হবে না। শক্ত হাতে দায়িত্ব নিতে হবে।তিনি কারো সাথে খারাপ ব্যবহার না করে ভাল ব্যবহার দিয়ে কৌশল খাটিয়ে কথা বলে সুবিধাবাদীদের আস্তে আস্তে মাইজভাণ্ডার শরীফ ছেড়ে যেতে পরোক্ষভাবে সহযোগীতা করতে থাকেন। এতে মহান গাউছে পাকের মাইজভাণ্ডারী দর্শনের প্রভাবে আকৃষ্ঠ হয়ে রূহানী জগতে যেমন প্রসার, প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে, দুনিয়াবী সংসারেও ভক্ত-অনুরক্ত এর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। প্রতিদিনই ভক্তবৃন্দ আসতে থাকে এবং তারা খালি হাতে আসেন না। তাতে আয় বেড়ে যেতে লাগলো। হযরত গোলামুর রহমান শাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর ২য় কণ্যা মোহতরমা সৈয়দা ছাজেদা খাতুন ছাহেবানীর সাথে অছিয়ে গাউছুল আযমের শাদী মোবারক সম্পন্ন হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখেরই ছিল।
তিনি প্রত্যেক বিষয়ে শৃংখলা রক্ষা করতেন এবং যথেষ্ঠ এবং যথেষ্ঠ সঞ্চয়ী ছিলেন। তাঁর সঞ্চয় খাত থেকে তিনি প্রত্যেক খাতে টাকা জমা দিতেন। শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য শিক্ষা খাত। চাষাবাদের জন্য কৃষিখাত। সেবা স্বাস্থ্যের জন্য স্বাস্থ্যখাত। রওজা শরীফের খাদেমদের জন্য দেয়া খরচাদিও রওজা শরীফ সংস্কার ইত্যাদির জন্য রওজা শরীফ খাত। এ সমস্ত খাতে তিনি খতিয়ানের জমা খরচ মেনে বন্টনে সমতা বিধান করতেন। অছিয়ে গাউছুল আযমের বড় পুত্র শাহেনশাহ্ বিশ্বওলী হযরত জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) কে তিনি হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর আদেশে ঐশী চাদর পড়িয়ে আধ্যাত্মিক ফয়েজ অর্পন করেছিলেন।
এরপর থেকে শাহানশাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) মাইজভাণ্ডার শরীফের মহারথী হওয়ার পথে অপেক্ষারত ছিলেন। ১৯৪৯ সালে অছিয়ে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) “আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী” নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ইহা একান্তই আধ্যাত্মিক ধর্মীয় সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে উসুলে সাবআ-এর তত্ত্ব ও তথ্যগুলো মানবতার কল্যাণে সর্বসাধারনের কাছে প্রচার ও প্রকাশ বিকাশ ঘটানো। বিভিন্ন থানায় ও বিদেশেও বিভিন্ন শাখার অনুকুলে তৈরী করা। ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ভক্তের অনেক উপকার করেছেন, দয়া করেছেন মূলত ঐশী ফয়েজ ও হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) প্রত্যক্ষ দয়ায় তিনি অনেক কারামত দেখিয়েছেন তাও কাজের সূত্রে।
অহেতুক শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে নিজেকে বড় করার কোন উদ্দেশ্য তাঁর কখোনো ছিলনা। তিনি অনেকগুলো ধর্মীয় গ্রন্থ লিখেছেন। তাঁর আওলাদগণ হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর রওজা পাক সংস্কারের মাধ্যমে যে স্বপ্ন আজীবন লালন-পালন করে আসছিলেন মনের মধ্যে সেটিও তাঁর মনের আকাংখার প্রতিফলন। ১৯৭৫ইং এর পর থেকে শাহানশাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) কে নতুন করে ভক্তবৃন্দগণ বুঝতে শিখেন পরিচিতি হতে শিখছেন। অছিয়ে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন ভক্তবৃন্দগণ।
তিনি ছিলেন দূর্গত মানবতার অকৃত্রিম সেবক। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি নানুপুর, লেলাং প্রভৃতি ইউনিয়নের দুর্গত লোকদের জন্য কিচেন কমিটি গঠন করেন এবং দু:স্থ লোকদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেন। খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার দ্বারা তিনি অনেক দূর্গতকে নিজের প্রত্যক্ষ সেবায় সুস্থ করে তোলেন। অনেক অনাথ বালক বালিকা ও ভবঘুরে তাঁর শিক্ষা দীক্ষা প্রাপ্ত হয়ে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আসুন আমরা সকলে আজ এ মহান আদর্শ ও প্রেরণায় উদ্বুদ্ব হই। সমাজের সামগ্রিক কল্যাণকল্পে বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ ও কুসংস্কার প্রতিরোধমূলক সংগঠন গড়ে তুলি, বলাবাহুল্য হযরত দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর মহান আদর্শকে বাস্তবায়িত করতে পারলেই মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সকল বাস্তবায়ন সম্ভবপর হবে।
হযরত দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) বলেন, “আহবান আসিল মোর মর্তুজা হইতে নূরে চেরাগে আহমদ মোস্তফা হইতে, পুরাতন দিনগুলির সাজসজ্জ্বা তুমি, আমার ডাক, আমার ঢোল, আমার বোল তুমি, আনন্দে নৃত্য কর আপন জনমনে, গোলাপ আম্বর গন্ধ দাও সর্বজনে। সামনে আছে কাবা আমার প্রেম কদমে চলেছি, দেমাগতে ছুন্নাহর ছানা সূক্ষ্ম মাথা গড়েছি। পরনেতে অলির পরশ পন্থা নির্দেশ দিয়েছি। অনর্থেরী পরিহারে তাকওয়ার ঝলক দেখেছি, তুমি আমার প্রাণের সখা কত রূপে পেয়েছি। ধনে ধ্যানে, প্রাণে, রূপে যতইভাবে বুঝেছি, সর্বস্থানে তোমার রূপ আমার ভালো দেখেছি, তুমি আমার আমি তোমার, সর্বস্থানে জেনেছি, তাই বুঝি তুমি ছাড়া অন্যহাস্থি বিনাশী, হোসাইন তোমার পাগল পারা, সর্বস্থানে বিরাজমান। এদিক ও দিক দু’দিক ছেড়ে জোড় কদমে আগুয়ান”।
হযরত বাবা ভাণ্ডারী (কঃ)১৯৩৭ সনে ওফাতের পর এখন নতুন একজন সুপ্রীম শক্তির অধিকারী মহাওলীরূপে মাইজভাণ্ডার শরীফে তাঁর বড় পুত্র শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ত্রানকর্তারূপে ভক্তদের মাঝে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
অছিয়ে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) বেছালের সময় কোন প্রকার শারীরিক বা মানসিক রোগে ভোগেননি। শুধু বার্ধক্যজনিত দূর্বলতা অনূভব করেছিলেন। কিন্তু ভক্তবৃন্দদেরকে বলেছিলেন একবার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে সেখানে তাঁর দাদাজান হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) তাঁর দেলাময়নার কাছে হাজির থাকবেন। যা করার তিনিই করবেন। সেদিন ছিল ১৯৮২ইং সালের ১৬ই জানুয়ারী শনিবার সকাল ৯টা ১০মিনিটেই তিনি ওফাত বরণ করলেন। সকল ভক্ত-অনুরক্তদের ও শিষ্যবৃন্দকে শোক সাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে গেলেন। আমরা তাঁর দয়ায় যেন মাইজভাণ্ডার শরীফের সংবিধান ও মুক্তির সপ্ত পদ্ধতি তথা উসূলে-সাবআ-এর পূর্ণ নিয়ম-কানুনগুলো মেনে চলতে পারি ও লাভবান হতে পারি সে প্রার্থনাই করি।
লেখক-
মাইজভাণ্ডারী গাউছিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ,
সূর্যগিরি আশ্রম শাখা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।
