নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দনাইশ : চন্দনাইশে বিভিন্ন ধানি জমির উপরিভাগের টপসয়েল যাচ্ছে বসতবাড়ী (ভিটে) ভরাট কাজে ও ইটভাটায়। প্রকাশ্যে রাতদিন এসব মাটি বিকিকিনি হলেও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে, গতকাল ১৪ ডিসেম্বর উপজেলা বরমা বাতাজুরী এলাকার ধানি চাষের বিশাল মাঠে গিয়ে দেখা যায়। বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫/২০ টি মাটি পরিবহনের ডাম্পার গাড়ী লাগিয়ে শতাধিক শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটতে দেখা যায়। সরকার দলীয় প্রভাব কাটিয়ে বরমা বাইনজুরী গ্রামের মরজলার পুত্র ইদ্রিচের নেতৃত্বে একদল সিন্ডিকেন্ট এসব মাটি সরবরাহ কাজে জড়িত রয়েছে। এসময় ইদ্রিচ সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় কিছু ৩জন মেম্বার ও প্রশাসনকে ম্যানেজ এ ধানি জমির উপরিভাগে টপসয়েল মাটি বিক্রি করছেন। যার ফলে নিয়মিত মাটি গাড়ী চলাচলের কারণে সড়ক দেবে গিয়ে এলাকার ব্যাপক রাস্তাঘাটের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে চলাচলে অনুপোযুগী হয়ে যাচ্চে।
কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৪০ শতক জমির মাটির জন্য ৫০ হাজার টাকা দিচ্ছেন ইটভাটার মালিক ও ভূমিদূস্যু সিন্ডেকেট।
পরিবেশবিদদের মতে,একদিকে যেমন জমির উর্বরা শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে। তেমনি এসব জমিতে ফসল উৎপাদনও আশানুরূপ হচ্ছেনা। একবার উপরের মাটি কাটা হলে তা পুরণ হতে কয়েক বছর সময় লাগে বলে কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়।
উল্লেখ্য, যে, উপজেলার জামিজুরী, সাতবাড়িয়া, হাশিমপুর, বরকল, পূর্ব এলাহাবাদসহ বিভিন্ন গ্রামে জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ট্রাক ভর্তি করে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন জানান, বেশী টাকার লোভে ধানি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। উপরিভাগের দুই/তিন ফুট মাটি কাটা হচ্ছে। চন্দনাইশে প্রায় অর্ধ শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। প্রতিটি ইট তৈরীর কাজে ধানি জমি ও পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হয়। ইটভাটার জনৈক কারিগর জানান, একটি ইট তৈরী করতে ২৫ ঘনফুট মাটি প্রয়োজন হয়। ইট তৈরীর কাজে বিশেষ করে ধানি জমির মাটি বেশি ব্যবহার করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামিজুরী গ্রামের ধানি জমির মালিক জানান, ফসল চাষ করতে গিয়ে বিপুল টাকা খরচ হয়।
অনেক সময় খরচের টাকাও তোলা সম্ভব হয়না। তাই বিনাশ্রমে প্রতি ৪০ শতক জমির মাটি ৫০ হাজার টাকায় ইটভাটায় বিক্রি করছেন।
জানা যায়, জমির টপসয়েল নয় ইঞ্চি থেকে এক ফুট পর্যন্ত খাদ্য কণা থাকে। জমির উপরিভাগ নেওয়ার ফলে উর্বরতা কমে যায় এবং সে সঙ্গে ফলনও হয় কম। মাটির গাড়ি বেগতিক চলাচলের কারণে ফসলী জমির মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং গাড়ী চলাচলের কারণে এলাকার সড়কগুলো চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে।
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি জানান, কৃষকরা সচেতনতার অভাবে টাকার লোভে পড়ে জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করছেন। একবার উপরের মাটি কাটা হলে তা পুরণ হতে কয়েক বছর সময় লাগে। কৃষকদের নানাভাবে বুঝানোর পরও কতিপয় কৃষকরা তাদের জমির মাটি বিক্রি করে যাচ্ছেন। জমির মাটি কাটা বন্ধের ব্যাপারে তাদের কোন হাত নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন মাটি কাটার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫ দিন ধরে অভিযোগ করা হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবারক হোসেন জানান, অবলিম্বে মাটি কাটার জড়িত ব্যক্তির ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরমা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় ইউপি মেম্বারসহ কেউ মাটি কাটার ব্যাপারে অনুমতি দেয় নি সাংবাদিকদের জানালেও ইউএনও কে তিনি বলেছেন অল্প মাটি কবরস্থান ভরাটের জন্য নেওয়া হচ্ছে। তার সাংঘর্ষিক বক্তব্য সাংবাদিকদের বিব্রত করেছে।
