তরল কোকেন, ইন্টারপোল এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত

0

সিটিনিউজবিডিঃ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে তরল কোকেন পাঠিয়েছিল লন্ডনে অবস্থানরত বকুল মিয়া। এ চোরাচালানে অর্থায়ন করেছিল বকুলের ব্যবসায়িক পার্টনার ভারতে অবস্থানরত রাজু।

দুজনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাদের ধরতে ইন্টারপোল এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোকেন আমদানির সঙ্গে জড়িত তিনজনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বকুল মিয়া এবং রাজু’র বিষয়ে তথ্য পেয়েছে ডিবি। এখন তাদের কাছ থেকে বকুল মিয়া ও রাজু’র পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। দেশে অবস্থানরত কয়েকজনের বিষয়েও কিছু তথ্য এসেছে।

আর্ন্তজাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল কাজ করে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে। আর বৃটিশের বিশেষায়িত পুলিশ সংস্থা হচ্ছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড।

সানফ্লাওয়ার তেলের নামে তরল কোকেন আমদানির মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরা হলেন, গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (করপোরেট, বিক্রয় ও বিপণন) এ কে আজাদ, একটি ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এবং সানফ্লাওয়ার তেলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সোহেল।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এস এম তানভির আরাফাত বলেন, যে ‍চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি জানান, রোববার গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে রিমান্ডে মুখোমুখি করা হবে। এতে আপাতত পাওয়া অনেক তথ্য মিলিয়ে নেয়া যাবে।
এ চক্রের সঙ্গে আরও কারা আছে সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানান নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এস এম তানভির আরাফাত।

তরল কোকেন আমদানির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার (উত্তর) মো.কামরুজ্জামান জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইন্টারপোল এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে সহায়তা চাওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করতে চান তারা। এজন্য পুলিশ সদর দপ্তরে ইন্টারপোল ডেস্কের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া চলছে। আর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে সহায়তা চাওয়া হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। তবে এর আগে পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করা হবে।

নগর পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তরল কোকেন সন্দেহে গত ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার বন্দরে সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সানফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। ২৭ জুন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, কেমিক্যাল পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

চালানটি নগরীর খাতুনগঞ্জের খান জাহান আলী লিমিটেডের নামে বন্দরে আনা হয়। কনটেইনারটি সিলগালা করার আগে নগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছিল।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.