গোলাম শরীফ টিটু : চট্টগ্রামে কোন রকম পুর্ব নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে বিল বাড়িয়ে দিয়েছে ওয়াসার নুন্যতম বিলের পরিমান। এতেকরে তিনগুনের বেশি বেড়ে গেছে অনেক গ্রাহকের বিল। অভিযোগ জানাতে প্রতিদিন শতশত গ্রাহক ভিড় করছেন ওয়াসা কার্যালয়ে। কিন্তু মিলছে না তাৎক্ষনিক কোন সুরাহা। আগ্রাবাদ বেপারী পাড়ার এক গ্রাহক ২১ বছর ধরে পানি পান না।
প্রতি মাসে লাইন চার্জ দেয়া হতো তাকে। তার নামে বিল করা হয়েছে ৬৯০ টাকা। পাঠানটুলি এলাকার এক গ্রাহক মাঝেমধ্যে পানি পেতেন। নুন্যতম বিল হিসেবে ৩০০ থেকে ৩২০টাকা দিয়ে আসছেন তিনি। এ মাসে (ডিসেম্বর-১৬) চট্টগ্রাম ওয়াসার বিল হাতে পেয়ে চমকে যান তিনি। বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ৭২০ টাকার। আগের মত পানি ব্যবহার করলেও বেশি বিল আসার বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করেন ওয়াসার। বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয় ওয়াসা থেকে।
এ রকম শত শত গ্রাহকের নামে ঢালাওভাবে বিল করেছে ওয়াসা। মাসের বিল হাতে পাওয়ার পর থেকে গ্রাহকরা অভিযোগ জানাতে আসছেন ওয়াসা কার্যালয়ে। বিভিন্ন গ্রাহক থেকে ছাপানো পত্রে অভিযোগ নিচ্ছে ওয়াসা। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, শুধু নষ্ট, চুরি কিংবা মিটারহীন গ্রাহকদের নুন্যতম বিল করা হচ্ছে। সচল থাকা গ্রাহকদের মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল করা হচ্ছে। অচল বা মিটারহীন গ্রাহকরা মিটার সংযোজন করলে নুন্যতম বিল দিতে হবে না। আমরা চাই তারা মিটার লাগিয়ে নিক।
মিটার সচল গ্রাহকদেরও নুন্যতম বিল করা প্রসঙ্গে তিবি বলেন,’ মিটার সচল থাকলে গ্রাহকদের নুন্যতম বিল কেন দিতে হবে। তারা মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল দিবেন। অনেকে আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। আমি সাথে সাথে তাদের বিল ঠিক করে দিচ্ছি। আজকেও ২০০/২৫০ গ্রাহকের বিল ঠিক করে দিয়েছি। জানা যায়, মিটারহীন গ্রাহকদের মিটার সংযোজনের আগ্রহ বাড়াতেই মুলত বাড়তি বিলের বোঝা চাপাচ্ছে ওয়াসা। নুন্যতম বিলের পরিমান বাড়ানো হলে গ্রাহক মিটারে আকৃষ্ট হতে পারে।
এতে পানির যথাযথ মুল্য পাবে ওয়াসা। বিষয়টি আড়াল করে ওয়াসা হঠাৎ করে চাপিয়ে দেওয়া নুন্যতম বিলের এ বোঝার জন্য টেনে আনছে ২০০০ সালের১৬৫তম বোর্ড সভার একটি সিদ্ধান্তকে। কিন্তু নুন্যতম বিল আরোপের আগে ওযাসা গ্রাহকদের কোন নোটিশ প্রদান করেননি। বর্তমানে ওয়াসার গ্রাহক আছে ৬৫ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১০ হাজার গ্রাহকের মিটার রয়েছে। ওয়াসার বর্তমানে ১০ হাজার মিটার মজুদ আছে। প্রক্রিয়াধীন আছে আরও ৫০ হাজার মিটার ক্রয়।
