নিজস্ব প্রতিবেদক::চট্টগ্রাম নগরীর গণপরিবহনে শৃংখলা আনায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এর নেতৃবৃন্দ এবং সিএনজি চালিত ট্যাক্সি মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন।
রোববার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।সভায় বাংলাদেশ সরকারের সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বরাবর উত্তাপিত ৯ দফা দাবী নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- টার্মিনাল নির্মাণ, বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গায় বিপিসি’র সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী আধুনিক মানের ট্যাংকলরী টার্মিনাল নির্মাণ, গাড়ী পার্কিং এর স্থান নির্ধারন, শ্রম আইন অনুযায়ী গাড়ী চালককে নিয়োগ পত্র প্রদান, শাহআমানত ব্রিজের উভয় পাড়ে তল্লাশির নামে হয়রানী বন্ধ করা, অসাধু ও দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়ক, মহাসড়কে বেআইনী চাঁদা আদায় বন্ধ করা, হাইওয়েতে যত্রতত্র তেল জ্বালানী ও কেমিক্যাল বহনকারী ট্যাংকলরী চেকিং বন্ধ করা, নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত টোল ট্যাক্স আদায় বন্ধ করা, হয়রানী ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও বিআরটিএ’র প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আন রেজিষ্টার অটোরিক্সা (সিএনজি) এর রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করা, ভূয়া সংগঠন, সমবায় সমিতি বা সমাজকল্যাণ সমিতি থেকে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত সাইনবোর্ড সর্বস্ব সংগঠনের নাম ব্যবহার করে পরিবহন খাতে সন্ত্রাসী কায়দায় পরিবহন শ্রমিক সংগঠন দখল করার অপপ্রয়াস দমন করা, গণপরিবহন চলাচলে টার্গেট সিস্টেম বাতিল করা, টার্গেটের অতিরিক্ত খাত দেখিয়ে চাঁদা আদায় বন্ধ করা, অবৈধ গাড়ী চলাচল ও রোড পরিবর্তনে কড়াকড়ি বন্ধ করা, রাতের বেলায় শাহআমানত সেতু হয়ে মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে শহরের অভ্যন্তরে পণ্য খালাসের জন্য আগত পণ্যবাহী গাড়ীর শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ করা, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যানযট নিরসনে অবৈধ গাড়ী চলাচল বন্ধ করা, বিআরটিএ’র অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধ করা, ওজন স্কেলে জরিমানার নামে অবৈধ চাঁদাবাজী বন্ধ করা সহ ৯ দফা দাবী নামার বিষয়ে মনখোলা ও প্রানবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়াও সিএনজি চালিত ট্যাক্সির বিষয়ে পরিসংখ্যান পরিচালনা করে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সিএনজি চালিত ট্যাক্সির সংখ্যা চুড়ান্ত করনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন গণপরিবহনে শৃংখলা সুপ্রতিষ্ঠায় শ্রমিক ও মালিক সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সরকার সকল নাগরিকের অধিকারের প্রতি সচেতন।
প্রধানমন্ত্রী এ লক্ষ্যে প্রাণপন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।এ দেশ আপনার আমার সকলের। সকল ক্ষেত্রে শৃংখলা, নিয়ম-নীতি বজায় থাকলে দেশে শান্তি শৃংখলা বিরাজ করবে। ফলে দেশের কাংখিত উন্নয়ন সম্ভব হবে। মেয়র পরিবহন খাতে শৃংখলা সুপ্রতিষ্ঠায় দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি ও পেশার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল বাহার,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মাসুদ উল হাসান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা পরিচালক লে. কর্ণেল মো. আব্দুল গাফ্ফার, উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সৈয়দ আবু সায়েম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান, বিআরটিএ’র উপ পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি রেজাউল করিম, জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সফর আলী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি মৃনাল চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রামের সভাপতি মোহাম্মদ মুছা প্রমুখ।
