নিজস্ব প্রতিবেদক::মহেশখালি উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের বেরিবাধ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়াতে, বর্ষা মৌসুম আসার আগেই উপকূলীয় এলাকা জুড়ে গ্রামবাসীরা আতংকিত বলে জানা যায়। কেননা একমাত্র বেরিবাধটি বিলীন হয়ে গেছে।
গত ৫ই ফ্রেবুয়ারী সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ধলঘাটা ইউনিয়নের ৩০হাজার মানুষের জীবন রক্ষাকারী বেরিবাধ সমুদ্রের করাল গ্রাসে পরিণত।
বিগত দিনে কয়েকটি ঘূর্নিঝড়ে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ধলঘাটা ইউনিয়নের প্রায় সবকটি পয়েন্ট মারাত্মক আকার ও ঝুঁকিপূর্ণতে পরিনত। ভুক্তভোগী এসব এলাকার জনগণ বলছে, ঠিক সময়ে এসব বাঁধ মেরামত না করা হলে,বর্ষা মৌসুমে দূর্বল বেড়ীবাঁধগুলো বিলীন হয়ে যাবে সাগরে। এমনকি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলা হলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ নেয়নি তারা। উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১২ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ ঝূঁকিপূর্ণ।
পাউবো অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধলঘাটায় তাদের অধীনে বেড়িবাঁধ রয়েছে মোট ১৫ কিলোমিটার মতো প্রায় । কিন্তু সংস্কারের অভাবে প্রায় ৭০ ভাগ বেরিবাধের অবস্থা জরাজীর্ণ। প্রতিটি পোল্ডারের বেশিরভাগ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় গ্রামবাসীর জন্য আশংকা দেখা দিয়েছে।
২০০৯ সালে আইলায় ভেঙে যাওয়ার পর এলাকার বাঁধটি মেরামত করা হয়নি। যার কারণে সাগর বক্ষে দিন দিন বিলীন হয়ে গেলো ধলঘাটা গ্রাম রক্ষা বাধ। বছরের বেশির ভাগ সময় পানিতে ডুবে থাকে এলাকা। প্রাকৃতিকবিপর্যয়ে ভেসে গেছে চিংড়ির ঘের ও পুকুরের মাছ, নষ্ট হয়েছে ক্ষেতের ফসল ও শাক সব্জি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের চেষ্টায় স্থানীয় জনগণ রিং বাঁধ দিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছিলো কিছুদিন। স্থানীয়দের দাবি বর্ষা মৌসুমের পুর্বে বিলীন হওয়া বেড়ীবাঁধের উপর জিও বাধ দিয়ে মাটি না দিলে সাগরের বুকে চলে যাবে গ্রামটি।
গত কয়েকমাস আগে পানি উন্নয়নবোর্ড এলাকা পর্যবেক্ষণ করে গেলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তবে একটি সংশ্লিষ্টসুত্রে মতে জানা যায়,সাম্প্রতিকতম সময়ে ২টি ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছে বেরিবাঁধ উন্নয়নের কাজ করতে, যদিও এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের কাজ শুরু করেনি ঠিকাদার এমনটি দাবি করেন স্থানীয় যুবক ওসমান মাঝি।
ইউনিয়নের সমাজ সেবক রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকবছর ধরে এসব বেড়ীবাঁধগুলো মেরামত করা হচ্ছে বলে জানালেও,বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। কংকালসার বেরিবাধ মেরামতের আজও কোন পদক্ষেপ দেখেনি গ্রামবাসী। যদিও পানি সম্পদমন্ত্রী সফর করে আশ্বাস দিয়েছেন টেকসই বেরিবাধ তৈরি করার।
পাউবো কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলার পরও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বিষয়টি মন্ত্রনালয়ে অবগত করেছেন বলে জানান অফিসের এক কর্মকর্তা। এখন নদীতে জোয়ারের চাপ বেশী থাকায় ওয়াপদা ভেঙে পানি ঢুকছে ভেতরে। এখনই এগুলো ভালভাবে মেরামত করা না হলে এবার বর্ষায় পুরো এলাকা নোনা পানিতে তলিয়ে যাবে। হারাবে মানচিত্র থেকে ধলঘাটা গ্রাম এমনকি ৩০ হাজার মানুষ হারাবে তাদের আবাসন এমন তথ্যও জানা যায়।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকৌশলী জানান, পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় এসব ঝূঁকিপূর্ণ স্থান মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। যেসব এলাকা ভেঙে গেছে সেগুলো মেরামতের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাকিগুলোও মেরামত করা হবে।
অন্যদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান,বর্ষার আগেই বেরিবাধের কাজ শুরু না করলে এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। অন্তত জিও বাধ দিয়ে বর্ষা ঠেকানো দরকার বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ জানান,ধলঘাটার বেরিবাঁধের বিষয়ে মন্ত্রনালয় অবগত আশা করি অতি শীঘ্রেই কাজ শুরু হবে।
