মিরসরাই প্রতিনিধি::মিরসরাইয়ে তুলি বৈদ্য (২৩) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত তুলি উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রায়পুর গ্রামের লিটন বৈদ্যের স্ত্রী। শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার সময় এই ঘটনা ঘটে। রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের পিতা শিবু মল্লিক জানান, প্রায় ৩ বছর আগে তার মেয়ে তুলি পরিবারের অমতে পালিয়ে লিটনকে বিয়ে করে। বিয়ের পর দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে ছিল। কয়েকবছর আগে বাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে ফিরে আসার পর তার স্বামী ও শাশুড়ী তাকে যৌতুকসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতনের কথা তার মেয়ে ফোনে মাকে বলতো। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটিও হয়। তার মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করে ঘরের ভিমের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেকান্দার মোল্লা জানান, শনিবার রাতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রায়পুর গ্রামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে শুনে তার নেতৃত্বে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিবার সকালে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। প্রাথমিক অবস্থায় এটি আত্মহত্যা বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে নিহতের পিতার দাবি এটি খুন। তাই লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি (অফিসার ইনচার্জ) জাহিদুল কবির জানান, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রায়পুর গ্রাম থেকে তুলি বৈদ্য নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
