এম রমজান আলী, রাউজান প্রতিনিধি::রাউজানে বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কৃষকরা এখন ধানের চারা রোপনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বহু এলাকায় সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষাবাদ হচ্ছেনা। উপজেলার সংশি¬ষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে শুষ্ক মৌসুমে ১১৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের এবং ৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের বোরোধান চাষাবাদ করা হবে। সর্বমোট ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগ। উপজেলার ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমির মধ্যে ইতোপূর্বে ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে ও বোরোধানের চারা রোপণ করার ব্যপক প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।
সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় শুষ্ক মৌসুমে একটি গভীর নলকূপ, ৬টি অগভীর নলকূপ, ৬৫টি ঝর্ণা, ১৪৫টি ডিজেলচালিত সেচপাম্প, ৭৪৩টি বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করে এবং নদী-খালে বাঁধ দিয়ে জমিতে পানি সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করছেন কৃষকরা।
ডাবুয়া ইউনিয়নের কলমপতি এলাকার কৃষক সেলিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, গভীর নলকূপে বিদ্যুৎচালিত মোটর বসিয়ে ১০ একর পৈতৃক জমিতে বোরোধানের চাষাবাদ করছেন তিনি। প্রতিবছরই শুষ্ক মৌসুমে ওই পরিমাণ জমিতে বোরোধানের চাষাবাদ করেন তিনি। এবারও তার বোরোধানের, রোপন কাজ চলছে পুরোদমে। এদিকে রাউজানের ঢালারমুখ এলাকার রঙিনছড়ি খালের ¯¬ুইস গেট বন্ধ রেখে এবং গোদার পানি দিয়ে ৫০ একর জমিতে বোরো চাষ করছেন এলাকার কৃষকরা। উপজেলার সীমান্তবর্তী কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের গোদারপাড় এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত রঙিনছড়ি খাল। জনগণের চলাচলের জন্য রাউজান পৌরসভার ২য় প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজের উদ্যোগে এবং স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে একটি ব্রিজ নির্মিত হয় খালটির ওপর। ব্রিজটির নিচেই নির্মাণ করা হয় একটি স্লুইচ গেট। এর সামান্য পাশেই মাটিকেটে বাঁধ দিয়ে এলাকার কৃষকরা তৈরি করেন গোদা। রাউজান রাবার বাগানের ভেতর দিয়ে রাঙামাটি সড়কের পাশে কৃষকদের তৈরি করা ড্রেনের মাধ্যমে রাউজান পৌর এলাকার রাবার বাগান, পূর্ব রাউজান, কাজীপাড়া, ঢালারমুখ, চেহেরিখীল এলাকার ফসলী জমিতে নিয়ে যাওয়া হয় গোদার পানি। তা দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে বোরোধানের চাষ করেন এলাকার কৃষকেরা।
রাউজান পৌর এলাকার ঢালারমুখ এলাকার বাসিন্দা কৃষক ইউনুস সর্দার জানান, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে খালে বাঁধ ও ড্রেন নির্মাণ করতে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। ওই টাকা এলাকার কৃষকেরা ভাগাভাগি করে দিয়ে থাকেন। এলাকার কৃষকেরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনটি পাকা করে দিলে এলাকার কৃষকেরা আরো লাভবান হতে পারতেন।
এ ব্যাপারে রাউজান পৌরসভার ২য় প্যনেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, এলাকার কৃষকেরা যাতে শুষ্ক মৌসুমে নির্বিঘেœ বোরো ধানের চাষাবাদ করতে পারেন, সেজন্য রঙিনছড়ি খালে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজ ও ¯¬ুইচ গেট নির্মাণ করে দিয়েছি। কৃষকদের চাষাবাদে সুবিধার জন্য পানি চলাচলের ড্রেনও নির্মাণ করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ রাউজানের নোয়াপাড়া কচুখাইন, পালোয়ানপাড়া, উভলং ও চান্দার বিল এলাকায় সেচ পাম্প নাবসায় গত কয়েক বছর ধরে বোরো দানের চাষাবাদ হচ্ছেনা তাই কৃষকরা চাষের পরির্বতে কিচু কিচু জমিতে শবজি চাষ করছে। এখানকার কৃষকরা জানান পানি চলাচলের ড্রেনও নেই খরছ বেশী তাই কেহ সেচ পাম্প নাবসায় না যারফলে বোরো চাষও হচ্ছে না। ফলে শত শত একর জমি অনাবাদি রয়ে গেছে। এই ব্যাপারে প্রয়োজনিয় উদ্যোগ নিলে এলাকার কৃষকেরা যাতে শুষ্ক মৌসুমে নির্বিঘেœ বোরো ধানের চাষাবাদ করতে পাবেন। কৃষকদের অভিযোগ মাঠ পর্যায়ে থাকা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠে না থাকার ফলে কৃষকদের নানা সমস্যায় ভুগছেন। এই ব্যাপারে উপজেলার কৃষি সহকারী কর্মকতা মোহাম্মদ অতিকুল ইসলাম বলেন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
