দারিদ্র্য বিমোচনে ইউনূসকে কৃতিত্ব দেয়ার চেষ্টা করছেন অর্থমন্ত্রী

0

সিটিনিউজ ডেস্ক::ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের জন্য এবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কড়া সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্যবিমোচন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহম্মদ ইউনুসকে কৃতিত্ব দেয়ার চেষ্টা করছেন অর্থমন্ত্রী। যারা এমনটি করছেন তাদের জন্য করুনা ছাড়া কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন নাসিম।

সোমবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন নাসিম। ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের কারণে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অর্থমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনুসেরও প্রশংসা করেন।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। অর্থমন্ত্রীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য কমায় না, যারা এই ঋণের ব্যবসা করে তাদের লাভ হয়। আর অর্থমন্ত্রী এসব বিবেচনায় না নিয়ে এমন একজনের প্রশংসা করেছেন যার কারণে পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। কিন্তু এখন ড. ইউনুস সাহেবকে ক্রেডিড দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচনে ড. ইউনুসকে ক্রেডিড দিয়ে যারা বক্তব্য দিচ্ছে, তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়। তাদের প্রতি করুণা ছাড়া কিছুই করার নেই।’

বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন নাসিম। তিনি বলেন,‘নির্বাচন পরিচালনা এবং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন নিয়েও কথা বলেন নাসিম। কোনো দল পর পর দুইবার নির্বাচনে না এলে নিবন্ধন বাতিলের বিধান আছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী নির্বাচনে না এলে তাদের নিবন্ধন হুমকিতে পড়বে। তবে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হলে কোনো দলের নিবন্ধন থাকবে না।

 এর জবাবে নাসিম বলেন, ‘নির্বাচনে আসা না আসা রাজনৈতিক দলের ব্যাপার। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপি বিভিন্ন স্টাইলে কথা বলছে।’

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে গৃহীত হবে বলে আশা করেন নাসিম।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন,‘আমরা ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি করছি। আশা করি ১১ তারিখে জাতীয় সংসদে দিবস হিসেবে গৃহীত হবে।’

জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম খান ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আফজাল হোসেন, বিপ্লব বড়ুয়া, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.