চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সুচিয়া স্কুল সংলগ্ন এলাকায় চলতি বছর ৮ এপ্রিল সকালে আগুনে পোড়া ক্ষত-বিক্ষত এক মহিলার লাশ উদ্ধার হয়। অবশেষে দীর্ঘ তিনমাস পর লাশের পরিচয় মিলেছে।
গত ৮ এপ্রিল সকালে আগুনে পোড়া ক্ষত-বিক্ষত অজ্ঞাতনামা এক মহিলার লাশ উদ্ধার করেছিল চন্দনাইশ থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়। সে মামলার সূত্র ধরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নজরুল ইসলাম দীর্ঘ তিনমাস ধরে তদন্ত করে আগুনে পোড়া ক্ষত-বিক্ষত লাশের পরিচয় উদ্ধার করেছেন। তিনি জানান, আগুনে পোড়া ক্ষত-বিক্ষত লাশটি গহিরা রাউজানের মৃত কাজী আহমদ কবিরের মেয়ে কাজী কানিজ ফাতেমা সুমাইয়া (২৮)। তার সাথে ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর ডবলমুরিং গোসাইলডেঙ্গার মৃত শেখ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শিপিং ব্যবসায়ী শেখ নওশাদ সরওয়ার (৩৪)’র সাথে বিবাহ সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে তাদের সংসারে ৯ মাসের জিহাদ সরওয়ার নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা যায়। তিনি আরো জানান, শেখ নওশাদের একাধিক স্ত্রী রয়েছে। সে কানিজ চট্টগ্রাম কলেজে লেখাপড়া করাকালীন সময় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। প্রেমের সম্পর্কের সূত্রধরে উভয়ের মধ্যে মেলামেশার মধ্য দিয়ে কানিজ অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে তাকে বিয়ে করে। পরবর্তীতে কানিজকে বহদ্দারহাট এশিয়ান হাউজিং সোসাইটিতে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রাখে। সেখানে মাঝে মধ্যে আসলে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত বলে জানান। এ ব্যাপারে কানিজ বাদী হয়ে ২০১৪ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ এর গ ধারায় নওশাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করে। ফলে সে মামলায় আসামী হয়ে নওশাদ কানিজকে হত্যা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে বলে পুলিশের ধারনা। গত ৭ এপ্রিল কানিজকে বিমানযোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বহদ্দারহাটস্থ বাসা থেকে দুপুরে নওশাদের আগ্রাবাদস্থ অফিসে বাচ্চাসহ নিয়ে যায়।
পরদিন ৮ এপ্রিল আগুনে পোড়া ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় কানিজের লাশ চন্দনাইশ উপজেলার সুচিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে। দীর্ঘদিন মেয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে গত ২৪ এপ্রিল কানিজের মাতা সৈয়দা দিলরুবা বেগম বাদী হয়ে তার স্বামী শেখ নওশাদ সরওয়ার, তার প্রথম স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিন পরী, বোন প্রিয়া, এমরান, বাবুদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অপহরণ পূর্বক হত্যা মামলা দায়ের করে। সে মামলাটি আদালত এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য পাঁচলাইশ থানাকে নির্দেশ দেয়। থানা কর্তৃপক্ষ মামলাটির তদন্ত শুরু করার পর থেকে নওশাদ সরওয়ার, তার প্রথম স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিন সহ সকল আসামীগণ পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে গত ৭ এপ্রিল নওশাদের গাড়ী চালক কানিজ ফাতেমাকে তার বাসা থেকে নওশাদের অফিসে এনে দেয়ার পর কি হয়েছে আর জানেন না বলে জানিয়েছেন। তবে ড্রাইভারও পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আরো জানান, ক্ষত-বিক্ষত লাশটি উদ্ধার করার পর অন্য কোন কেউ এ মহিলার পরিচয় দিয়ে দাবী করতে আসেনি। তাছাড়া কানিজ ফাতেমার মা ও ভাইয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তার একটি সামনের সারির দাঁতে ক্যাপ ছিল, কয়েক দিন আগে হাতে একটি সূতা বেঁধেছিল, যার তথ্য মিলেছে। তাছাড়া তিনি কানিজের ভাই কাজী নুরুল মোস্তফা ও মাতা সৈয়দা দিলরুবার সাথে কানিজের ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছেন।
প্রতিবেদন পেলে আসামীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন গ্রেফতার করতেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এ শিপিং ব্যবসায়ী নওশাদ সরওয়ারের একাধিক স্ত্রী রয়েছে। অতিরিক্ত টাকা থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে অপকর্মে লিপ্ত থাকতেন। সে স্থানীয় একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে এ অপকর্মে চালিয়ে যাওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়নি। সে কানিজ ফাতেমাকে ভাড়াটিয়া দিয়ে তার প্রথমা স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিনের বাড়ী পটিয়ায় হওয়ায় সে এলাকার লোকজন দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে মর্মে তদন্তে বেরিয়ে আসে। এ ঘটনাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়ায় হয়তো ফেঁসে যেতে পারে নওশাদ সরওয়ার। গত ৬ জুলাই মামলাটি ডিবিতে চলে যাওয়ায় ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতে পারে বলে মন্তব্য করছেন অনেকেই।
