নিষিদ্ধ, তবু অবাধে বিক্রি হচ্ছে জাটকা

0

আনোয়ারা প্রতিনিধি::আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে নিষিদ্ধ জাটকা ইলিশ। উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদাসীনতার সুযোগে কতিপয় অসাধু মাছ ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবিরা এসব জাটকা বিক্রি করছে।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বটতলী রুস্তমহাটের মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকজন অসাধু মাছ ব্যবসায়ী অবাধে বিক্রি করছে জাটকা ইলিশ। ওই সময় সাংবাদিকের ক্যামেরায় ছবি তুলতে দেখে ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান।

জানা গেছে, উপজেলায় ৭০/৮০ জন বড় মাছ ব্যবসায়ী রয়েছে। এসব মাছ ব্যবসায়ী সরকারের মৎস্য আইনকে উপেক্ষা করে বছরের বিভিন্ন সময় হাজার হাজার মণ জাটকা ইলিশ আমদানি করে থাকে। তারা উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুরের বিভিন্ন ঘাট থেকে ওই ইলিশ এনে তাদের মনোনীত মৎস্যজীবিদের মাধ্যমে বটতলী রুস্তমহাট, মহালখান বাজার ও চাতরী চৌমুহনী বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে। তবে তারা অন্য সময় স্বল্প পরিমাণ ইলিশ আমদানি করলেও বর্তমানে মূল্য কম থাকায় ব্যাপকভাবে জাটকা আমদানি করছে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১০ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ চলছে। এ সময়ে জাটকা শিকার, পরিবহন করা, মজুদ ও বজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য বিভাগ। অথচ মাছ ব্যবসায়ীরা ওই সময়ের কথা চিন্তা না করে ব্যাপকভাবে জাটকা ইলিশ আমদানি করছে। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নিষিদ্ধ জাটকা ইলিশ বিক্রি করছে প্রতিকেজি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে।

এ ব্যাপারে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ হুমায়ুন মোরশেদ বলেন, সোমবার বিকেলে রুস্তমহাটে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় ব্যবসায়ীদের জাটকা ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যায়নি। পরে হয়তো ব্যবসায়ীরা জাটকা বিক্রি করছে। এ বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হাতেনাতে ধরা পড়লে মৎস্য আইনের আওতায় আনা হবে।

বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, আমাদের দেশের ইলিশের বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারে ইলিশ রপ্তানি করে প্রতিবছর আয় করছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। এভাবে যদি জাটকা ইলিশ মাছগুলোকে অঙ্কুরেই মেরে ফেলা হয় তাহলে এর প্রভাব পড়বে সামনের মৌসুমে। যারা এই পোনা মাছ ধরা ও বিক্রির সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.