কল্যাণ বড়ুয়া মুক্তা, বাঁশখালী ::বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সকল নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা বিধানে আন্তরিক।আওয়ামীলীগ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উপকূলবাসীর জীবন রক্ষার্থের তাগিদে স্থায়ী ভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ গুরুত্ব সহকারে দেখে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকা অবহেলিত থাকলেও স্থানীয় সাংসদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টার মাধ্যমে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার ২শ ৫১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন সেকশনে নির্মাণ কাজের বরাদ্দ দিয়েছেন। চলতি বছরে কাজের জন্য ৯০ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হবে। আগামী বছর বাকি ১৬০ কোটি ছাড় দেওয়া হবে। যাতে করে ২০১৮ এর জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক বেশী স্বনির্ভর। বর্তমান সরকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাঁশখালীর সাংসদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বিশাল অংকের বরাদ্দের মাধ্যমে এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
গত শুক্রবার (১৭ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় এলাকা খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া গ্রামের মৌলভী পাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন ও উদ্বোধনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিছুল ইসলাম মাহমুদ উপরোক্ত কথা গুলি বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেড়িবাঁধের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিছুল ইসলাম মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী একেএম শামশুল করিম, বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী, থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অধ্যাপক তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাকসুদ মাসুদ, পাউবো উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম, খানখানাবাদের চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক আবু, সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান চৌধুরী, বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ বদরুদ্দীন চৌধুরী, আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, মোঃ শহীদ, মোঃ শোয়াইব ও হাফেজ মেম্বার প্রমুখ। মন্ত্রী বক্তব্য প্রদানকালে স্থানীয় জনগণ বেড়িবাঁধ সাগর থেকে বালি তোলে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কাজ আগের চেয়ে অনেক বেশী মজবুদ এবং টেকসই করে করা হচ্ছে। প্রতিটি ব্লক টেস্ট করেই বসানো হবে। কাজ যথাযথ ভাবে না করলে পেমেন্ট দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। ফোল্ডার নং ৬৪/১এ, ৬৪/১বি ও ৬৪/১সি এর সমন্বয়ে বাঁধের ঢাল সংরক্ষণসহ ব্রীজের কোজিং ও পুনরাবৃত্তিকরণ ৯.৯০০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে ৩.৮৪৮ কিলোমিটার, বাঁধ পুনরাবৃত্তিকরণ ২.০০ কিলোমিটার, স্থায়ী পুনবার্সন প্রকল্পের কাজ গত ৮ মাস পূর্বে শুরু হয়। খানখানাবাদ ইউনিয়নে ৪শ মিটার তীর সংরক্ষণ ও ৪ হাজার ৫শ মিটার ঢাল সংরক্ষণ, গন্ডামারায় ১৪শ মিটার, ছনুয়ায় ৩ হাজার ২শ মিটার ও ৯শ মিটার স্তায়ী বেড়িবাঁধের কাজ চলছে। বর্তমানে উপরোক্ত কাজের ২৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে পাউবো উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে জানান।
