নিজস্ব প্রতিবেদক::চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে জড়িয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যকে বিভ্রন্তিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করেছেন ৫ম নির্বাচিত সংসদের কাউন্সিলরা।
বৃহস্পতিবার ( ১৩ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নে উত্তর দেন কাউন্সিলররা।
এ সময় লালদীঘি মাঠে সোনালী মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির ব্যানারে ১০ এপ্রিল এবং ১১ এপ্রিল প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে প্যানেল মেয়র-১ চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, সাবেক মেয়র যে ১২ জন লোক হত্যার কথা উল্লেখ করেছেন আমরা তার কাছ থেকে সে লোকগুলোর নাম, ঠিকানা জানতে চাই। এবং সাথে সাথে আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর (মহিউদ্দিন) স্ত্রী সাহেদা মহিউদ্দিন হত্যার বিচার চাই। কাজের মেয়ে রানু, সন্তোষ, রবি, ওয়াজিউল্লাহ হত্যাকান্ডগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আহ্বান জানাই।
পৌরকর বিষয়ে চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, ১৭ শতাংশ পৌরকর ১৯৮৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে চালু আছে। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মনজুর আলম সময়কালে ১৭ শতাংশ ছিল।পৌরকর ধার্য করার একমাত্র এখতিয়ার সরকারের।
নগরীর অসচ্ছল, নি:স্ব, গরীব অধিবাসী, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার, খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ইত্যাদি ক্ষেত্রে আইন দ্বারা পৌরকর নির্ধারনের বিধান রাখা হয়েছে।
নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল নির্মাণের বিষয়ে হাসনী বলেন, আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় প্রায় সময় খুন হত ও মাদকসেবন করত। সুইমিং পুল হলে ঐ এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে ও মাদকসেবীদের আনাঘোনা কমে যাবে। তিনি আরো বলেন, সুইমিং পুল সিটি কর্পোরশেন করছেনা, এটা করছে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা।
মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ২০ মাস পর কেন এসব কথা বলা হচ্ছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে প্রশ্ন রেখে হাসনী বলেন, ‘আপনি নির্বাচনের সময় প্রচার কাজে নিয়োজিত নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক ছিলেন। তখন কেন মনোয়ন দেয়ার ব্যাপারে প্রতিবাদ করেননি। তখন চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে বলেননি একজন সন্ত্রাসী,খুনীকে মনোনয়ন দেয়া যাবেনা’
হাসনী আরো বলেন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দায়িত্ব পালনকালে চসিকের অসংখ্য পদে আত্মীয় স্বজন ও অস্থায়ী লোক নিয়োগ দিয়ে গেছেন। অনেক পদের নিয়োগ স্থায়ী করা হয়েছে। যার দলিল ও প্রমাণাদি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সংশ্লিষ্ট শাখায় রয়েছে। এমনকি প্যানেল মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রে যখন যাকে ইচ্ছা তাকে দায়িত্ব দিতেন এবং যাকে ইচ্ছা অপসারন করতেন।
সাবেক মেয়রের এহেন আচরন ও কর্মকান্ড রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের কর্মকান্ড, আচরন ও রুচিবোধকে জনসাধারনের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করেছে উল্লেখ করে বলা হয় এহেন নানাবিধ কারনে নতুন ও পরবর্তী প্রজন্ম সাবেক মেয়রকে কখনো ক্ষমা করবে না।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল লালদিঘী মাঠে সোনালী মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির ব্যানারে এবং ১১ এপ্রিল প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য দেন।
