কওমি স্বীকৃতি জঙ্গিদের সরকারি লাইসেন্স

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:: কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ছোবহানীয়া আলীয়া মাদ্রাসা ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কোতোয়ালী থানা শাখা।

সোমবার (১৭ এপ্রিল) আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রিয় ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রনেতা রেজাউল করিম ইয়াছিনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কেন্দ্রিয় প্রচার সচিব জননেতা রেজাউল করিম তালুকদার।

তিনি বলেন, জঙ্গি প্রজনন কেন্দ্র খ্যাত কওমি মাদ্রাসার কোন ধরনের সংস্কার না করে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে মূলত মাদ্রাসামূখি ছাত্রদের আলিয়া ছেড়ে উগ্রপন্থী কউমী নেসাবে উৎসাহী করবে। ফলে ক্রমে আলিয়া মাদ্রাসা ধ্বংস হবে এবং কউমিদের উগ্রশক্তি বৃদ্ধি পাবে। যা সুন্নিয়তের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের এক গভীর চক্রান্ত এবং ওহাবী -সালাফীবাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হতে বাধ্য। তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত তথা সুন্নীয়তের বিরুদ্ধে সরকারের এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে দেশে সন্ত্রাসী -জঙ্গিগোষ্ঠির সাহস আরো বেড়ে যাবে, যা মূলত সরকারের জঙ্গীবাদ বিরোধি সকল কর্মকান্ডকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

তিনি কউমী মাদ্রাসাকে সরকারি সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে, দেশে একমুখি মাদ্রাসা শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রিয় ছাত্রসেনার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আলিয়া মাদ্রাসায় ১৭ বৎসর অধ্যায়ন করে ৬টি পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করা হয়। অথচ কওমীদের যে দাউরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স এর মান দেওয়া হচ্ছে সেটির ব্যাপ্তিকাল হচ্ছে ৫ বছর। সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা নীতি বড়ই রহস্যময়। তারা সরকারিভাবে পরিচালিত আলিয়া মাদ্রাসমূহকে সাধারন শিক্ষার পর্যায়ে নিয়ে আসছে এমনভাবে-যাতে ভবিষ্যতে এ ঐতিহ্যবাহী আলিয়া কারিকুলামের মাদ্রাসা থেকে কোন যোগ্য আলেম, মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির আর ওঠে না আসে।

এমনকি সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম সম্প্রতি পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে কওমি মাদ্রাসাকে জঙ্গিদের আতুঁড় ঘর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা কওমিদের জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। অথচ সরকার সেই জঙ্গিবাদী কওমীদের সনদের সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে যেন জঙ্গিদের সরকারি লাইসেন্স প্রদান করল।

এতে উদ্বোধক ছিলেন ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ রিয়াজ হোসাইন। মুহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যুবসেনা কোতোয়ালী সেক্রেটারি যুবনেতা আবু তৈয়্যব চৌধুরী, যুবনেতা রেজাউল মুস্তফা তৈয়্যব। ছাত্রসেনা নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তৌহিদুল ইসলাম, মহিউদ্দিন ইকবাল, রাসেল আত্তারী, মোরশেদ, মাহব্ুুবুর রহমান বাহার, খাইরুল ইসলাম, জামাল উদ্দীন, সাদ্দাম রেযা, রাশেদ, খোরশেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, সাঈদ হোসেন প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে প্রদত্ত কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রত্যাহারে দাবি জানান। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রেসক্লাব হতে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আন্দরকিল্লা চত্বরে এসে শেষ হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.