শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার::কক্সবাজারের টেকনাফে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৮টি আবাসিক হোটল স্ব-উদ্যোগে ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ২০ মের মধ্যে নিজ দায়িত্বে হোটেল ভেঙ্গে তা সরিয়ে নেওয়ার জন্যও হোটেল মালিক পক্ষকে বলা হয়েছে। এছাড়াও পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন গড়ে তোলা ১০৪টি আবাসিক হোটেল চিহ্নিত করা হয়েছে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া গড়ে তোলা হয়েছে ১০৪টি আবাসিক হোটেল, কটেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া গড়ে ওঠা তিনতলা ও দোতলাসহ ৩৮টি আবাসিক হোটেল ভেঙ্গে তা সরিয়ে নিতে মালিক পক্ষকে লিখিতভাবে নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে আগামী ২০ মে এর মধ্যে নিজ দায়িত্বে এসব হোটল সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। যদি হোটেল মালিক পক্ষ নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হোটেল ভেঙ্গে সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসন ভেঙ্গে দেবে।
উচ্ছেদের আওতায় পড়া হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্রু মেরিন, ফ্যান্টাসি, অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, লাবিবা বিলাস, সেন্ডশোর, প্রাসাদ প্যারাডাইস, প্রিন্স হেভেন, স্বপ্ন বিলাস, সেভেন স্টার, ব্লু-সি ইস্টার্ন রির্সোট, সী ইন, ডাক বাংলা, ওশান ব্লু, সি-ভিউ, সী প্রবাল, সিটিবি ও এস কে ডিস।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, সেন্টমার্টিনে অবৈধভাবে গড়ে উঠা কটেজসহ ১০৪টি আবাসিক হোটেলের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন তলা, দোতলা ও এক তলার ৩৮টি আবাসিক হোটেল ভেঙ্গে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ দ্বীপে ১০৪ টি হোটেল, কটেজ ও স্থাপনা থাকলেও নোটিশ দেয়া হয়েছে ৩৮জন মালিককে। কারণ এ বহুতল হোটেলগুলো সেন্টমার্টিনের পরিবেশ বিনষ্টের জন্য হুমকি স্বরুপ। এছাড়া বাকী হোটেলগুলো টিন শেডের এবং সেমিপাকা। বহুতল ভবণ নয়। তাছাড়া স্বল্প সংখ্যক পর্যটকের রাত্রীযাপনে এগুলো থাকা দরকার।
‘তিনি আরও বলেন, এখন সেন্টমার্টিন নিয়ে সরকার নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যা অতি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। এ নোটিশ যেসব হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দায়িত্বে হোটেল ভেঙ্গে সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করে হোটেল ভেঙ্গে দেওয়া হবে।’
জানা যায়, সেন্টমার্টিন নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২১ মার্চ ৪ সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। রুলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নেয় সরকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তদন্ত কমিটি গঠনসহ নানা সুপারিশ করা হয়। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-পথের বিষয়টি তদন্তে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের কমিটি গঠন, নৌ-পথে অত্যাধুনিক বাতি বয়া বসানোর উদ্যোগ ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সেন্টমার্টিনে তিন বছরের জন্য সাময়িকভাবে পর্যটন বন্ধ করে দ্বীপটি পুনর্গঠনের সুপারিশ করে পরিবেশ অধিদপ্তর।
সরকারী নিবন্ধিত পরিবেশবাদী সংগঠন নেতা ইব্রাহিম খলিল মামুন জানায়, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ আন্দেলন করে এসেছি। তবে দেরিতে হলেও সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ায় সাধুবাদ জানাচ্ছি এবং দ্রুত এর বাস্তবানের দাবী জানাচ্ছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমদ বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি চিঠি পেয়েছি। তারা ৩৮টি হোটেল ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে এসব হোটেল ভেঙ্গে দেওয়া হবে।
এ বিভাগের আরও খবর
