আন্তর্জাতিক ডেস্ক::বিভক্ত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন সদ্যনির্বাচিত উদারপন্থি মুন জায়ে-ইন। আজ বুধবার রাজধানী সিউলের পার্লামেন্ট ভবনের রোটান্ডা হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের ১৯ তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে মুন শপথ নেন।
ব্যাপক দুর্নীতি কেলেঙ্কারির মুখে সাবেক প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে জিতে মুনের এ দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় নেতৃত্বে শূণ্যতা পূরণ হল। দেশে ঐক্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া সফর করা এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বিতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট মুন।
দুর্নীতিতে জর্জরিত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হে এই মুহূর্তে জেলে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের আমলে দুর্নীতি ও পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার হামলার হুমকি, তার উপর দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশে কর্মসংস্থান নেই বললেই চলে। অর্থনীতির গতিও ধীর।
ভোট পরবর্তী ফলাফল জরিপেও এগিয়ে ছিলেন প্রাক্তন এই মানবাধিকার কর্মী মুন। জাতীয় নির্বাচন কমিশন সরকারি ভাবে ফল ঘোষণা করে আজ। ২০১২ সালের নির্বাচনে এই মুনই সামান্য ভোটের ব্যবধানে পার্ক জিউয়নের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
কূটনীতিকরা বলছেন, মুনের জয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রসায়ন বদলাতে পারে দক্ষিণের। কারণ, পিয়ংইয়ংয়ের উপর চাপ বাড়ানো বা আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি কিম জং উনের সঙ্গে আলেচনার পথ মসৃণ করতে চায় মুনের দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কোরিয়া। আবার এই কারণে মুনকে ‘পিয়ংইয়ং-সমর্থক বামপন্থী’ বলে ভোট না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রসিডেন্টের দল লিবার্টি কোরিয়ান পার্টির প্রার্থী হং জুন-পিও।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেউপলক্ষ্যে গতকাল সরকারি ছুটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ায়। সকাল ছয়টা থেকে ভোট শুরু হয় ১৪ হাজার ভোটকেন্দ্রে। ৩৩০টি ভোটকেন্দ্রে ৮৯ হাজার ভোটাদাতার রায়ের উপর নজর রাখে দেশের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল।
