পটিয়ায় সুন্নী-কওমী সংঘর্ষের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক::দেশের তরিকতপন্থি সুন্নি মুসলমানরা জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকল নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। পটিয়ায় একটি কুচক্রি মহল সুন্নিদের একাধিক মাহফিলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মাহফিল বন্ধ করে সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বিনষ্ট করে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়ে এই দেশের দীর্ঘ দিনের লালিত সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

রোববার (১৪ মে) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সকাল ১১ টায় পটিয়া শান্তির হাটে সুন্নি-কওমি-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় বাস্তব ও সঠিক তথ্য জাতির সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স উ ম আবদুস সামাদ এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ৯ মে পুলিশের তত্ত্বাবধানে সুন্নীদের মাহফিল মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা বিকাল সাড়ে ৫ টায় বিক্ষোভ করেন। বিনা উস্কানিতে পটিয়া থানা পুলিশ স্থানীয় কওমীপন্থী মুজাহিদ কমিটির পক্ষ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিচার্জ করে ২০-৩০ জনকে আহত করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সাধারণ জনগণ আক্রান্ত হয়ে দিকবিদিক চলে যায়।

এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যান্তরীণ প্রতিপক্ষ পুলিশের উপর হামলা করে বসে এবং কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে। এ সময় ১৫০/২০০ জন লোক উপস্থিত ছিল। অথচ দুটি পুলিশী মামলা ও একটি ব্যক্তিগত মামলায় সমগ্র পটিয়া থানার বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনাসহ আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’আত এর অনুসারী মাহফিল আয়োজক ও স্থানীয় সরলপ্রাণ নিরীহ প্রায় ২ হাজার নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে এবং তাদেরকে আসামী করে গণহারে গ্রেফতার চালাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে কুসুমপুরা ও থানা মহিরা গ্রাম আজ পুরুষশূন্য। যারা শুধু নিরীহ-নির্দোষই নয়, বরং ঘটনা সম্পর্কেও তারা অজ্ঞাত। এতে বুঝা যায় ঘটনাটি সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যান্তরীণ বিরোধের ফায়দা হাসিলের জন্য পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আগামী ১৬ মে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, ১৭ মে চট্টগ্রাম মহানগর এবং ১৮ মে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার উদ্যেগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। আমরা অবিলম্বে এই সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করছি। পুলিশ যেহেতু ঘটনার সাথে জড়িত হয়ে গেছে, তাই বিচার বিভাগীয় কিংবা অন্য কোন সরকারী সংস্থা দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল করিম তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার নূর হোসেন, মো. আবদুর রহিম, জেলা নেতা আলহাজ্ব নাঈমুল ইসলাম, নাছির উদ্দিন মাহমুদ, মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, মাওলানা আশরাফ হোসাইন, পটিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, আলমগীর বঈদী, জসিম উদ্দিন ছিদ্দিকী, গিয়াস উদ্দিন নিজামী, কে.এম নুর উদ্দিন, ডিআইএম জাহাঙ্গীর আলম, মাস্টার জামাল উদ্দিন, মাওলানা নুরুচ্ছফা, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, এনামুল হক, ছাত্রনেতা জি.এম শাহাদত হোসেন মানিক, এইচ.এম শহিদুল্লাহ, নুরুল্লাহ রায়হান খান, ইমরান হোসেন তুষার, মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, আবদুল কাদের রুবেল, রিয়াজ হোসাইন, দিদার কাদেরী, সাহাব উদ্দিন, মারুফ রেজা, সৈয়দ একরামুল হক, নুরুল ইসলাম হিরু, শায়ের মাছুমুর রশীদ কাদেরী, এস. সাইফুল ইসলাম নিজামী, খোরশেদুল ইসলাম সুমন, গোলাম তাহের, মিজানুর রহমান, ফোরকান কাদেরী, রেজাউল করিম ইয়াছিন, আবদুল আলীম, রিদোয়ান তালুকদার প্রমুখ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.