শৈশব রক্ষায় বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান ১৩৪

0

সিটিনিউজ ডেস্ক::শিশুদের শৈশবকালীন অবস্থা বিবেচনায় বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪তম। ১৭২টি দেশের ওপর চালানো জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘স্টোলেন চাইল্ডহুড’ বা ‘চুরি যাওয়া শৈশব’ শীর্ষক এ জরিপে চালিয়েছে আন্তর্জাতিক শিশু সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন।

১ জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।

এ প্রতিবেদনে ১৭২টি দেশের মধ্যে কোথায় শিশুরা সবচেয়ে নিরাপদ আর কোথায় অনিরাপদ এ বিষয়ে বৈশ্বিক একটি সূচক প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে এগিয়ে থাকলেও মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার এবং ভারতের পেছনে রয়েছে।

সূচকে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে এবং সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার নেশ নাইজার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের মাত্র ১০টি দেশে পৃথিবীর মোট দুই তৃতীয়াংশ খর্বাকায় শিশু বাস করে। এদের মধ্যে ভারতে সবচেয়ে বেশি ৪৮.২ মিলিয়ন। এই ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম, যেখানে প্রায় ৫৫ লাখ খর্বাকায় শিশু রয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে ১৫ বছরের কম বয়সী একজন মেয়ের বিয়ে হচ্ছে এবং বাংলাদেশে ১৫-১৯ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার শতকরা ৪৪ শতাংশ।

প্রতিবছর প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ কিশোরী বধূ সন্তান জন্ম দিচ্ছে। এরকম শিশুর অর্ধেকের জন্ম বাংলাদেশ ছাড়া অপর ছয়টি দেশে ব্রাজিল, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে।

প্রতিবেদনে বলা হয় বিশ্বে প্রায় ৭০ কোটিরও বেশি শিশুর শৈশবকাল নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সেভ দ্য চিলড্রেনের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক পিয়ার্স বলেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নতি সাধন করলেও, এখনো অনেক শিশু অসুখে মারা যাচ্ছে এবং বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে শিশুরা তাদের স্বাভাবিক শৈশব হারাচ্ছে। আমাদের অবশ্যই এই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কাজ করা উচিত।

সেভ দ্য চিলড্রেন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা হিসেবে শিশু অধিকার রক্ষায় ১৯১৯ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করে আসছে।

বাংলাদেশে সংস্থাটি তাদের ‘এভরি লাস্ট চাইল্ড’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি করে আসছে যেন কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য অসুস্থতায় প্রাণ না হারায়। এছাড়া অপুষ্টি, শিশু শ্রম, শিশু নির্যাতন, বাল্যবিয়ে ও অকাল গর্ভধারণ যেন তাদের শৈশব কেড়ে না নিতে পারে এবং তাদের শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.