সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অবিলম্বে অবৈধ যানবাহনবিরোধী অভিযানের দাবি জানিয়েছে ‘পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা ও পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য কমিটি’।
শনিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা ও ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মাত্রাতিরিক্ত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ (ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন) যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল সড়ক, মহাসড়ক ও জেলা শহরগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম শুরু এবং র্যা ব, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রমজানের ঈদের আগে ১৫ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত দুর্ঘটনায় প্রায় আড়াইশ’ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দৃশ্যত সড়ক ও মহাসড়কগুলো পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। সড়কপথে ঈদ পরিবহণ ব্যবস্থাপনায় নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা রোধে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘সড়ক পরিবহণমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন বাস এবং অদক্ষ চালকদের দায়ী করলেও সড়ক-মহাসড়কে অহরহ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঠেকাতে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে গত ১০ দিনেও কোনো বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়নি।’
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১১ দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ২৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দেড় সহ্রসাধিক মানুষ, যাদের অনেকেরই অঙ্গহানি হয়েছে এবং অনেকের অবস্থা আশংকাজনক। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনার একাদশ দিন আজ শনিবার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাসের চাপায় একটি মাইক্রোবাসের সাত যাত্রীর প্রাণহানি ঘটেছে।
বিবৃতি দাতারা হলেন- সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মনজুরুল আহসান খান, নুরুর রহমান সেলিম, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক ও ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তুসার রেহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে।( সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)
