চন্দনাইশে সাংসদের ইফতার মাহফিল বর্জন করলেন নেতাকর্মীরা
বিশেষ প্রতিনিধি : চন্দনাইশ চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাংসদ সদস্যের উদ্যোগে মঙ্গলবার ২০ জুন মাহে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা সংসদ সদস্যের কাঞ্চননগর নিজ বাসভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলামের ইফতার মাহফিল বর্জন করেছেন উপেজলা আওয়ামী লীগ একাংশ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। চার বছরে সর্বক্ষেত্রে দলের নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয়হীনতার অভিযোগে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ওই ইফতার মাহফিল বর্জন করেন। এ ইফতার মাহফিল নিয়ে আ’লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়।
মঙ্গলবারের ইফতার মাহিফল বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার(১৬ জুন) দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন আহমদের চট্টগ্রামস্থ বাসায় উভয়পক্ষকে নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান,উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য আবু আহমদ জুনু, পৌর মেয়র মাহবুবুল আলম খোকা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ও এড. নজরুল ইসলামের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে উভয়পক্ষকের বক্তব্য শুনে জেলা আ’লীগের সভাপতি বিষয়টি নিরসনকল্পে একটি সিদ্ধান্তে আসেন।
সে সিদ্ধান্তের আলোকে গত শনিবার ১৭ জুন বাদে মাগরিব উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলামের চন্দনাইশ সদরস্থ বাসভবনে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিতিতে যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তা কোনটি সাংগঠনিক নিয়মে অনুষ্ঠিত হয়নি ।
এদিকে মঙ্গলবার উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করতে পারেন নি। এদিকে দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে কিছুক্ষণ পর চলে যান। মাহফিলটি চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) নির্বাচনী এলাকার জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সৌজন্যে আয়োজন করায় আ’লীগ নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যনীয়।
আ’লীগের কার্যকরী পরিষদের অধিকাংশ নেতা-কর্মী উপস্থিত থাকলেও, উপস্থিত ছিলেন না পৌর আ’লীগের আহবায়ক ও উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি এম কাইছার উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে আবু হেনা ফারুকী, মাহবুর রহমান চৌধুরী, এড. নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম খোকনসহ বেশ কয়েকজন কার্যকরী সদস্য। তাছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাপতি-সম্পাদকদের মধ্যে অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন।
পৌর আ’লীগের আহবায়ক এম কাইছার উদ্দিন চৌধুরী বলেন সাংসদ নজরৈুল ইসলাম উপজেলায় সাংগঠনিকভাবে কোন নিয়ম মানছেন না, সঠিক পর্যালোচনা না করে নিজের ইচ্ছায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন ,সমন্বয়হীনভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জামাত বিএনপির লোকদের কমিটির সদস্য করছেন এসব নিয়ে আ’লীগের তৃনমুলের নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে ।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, তিনি দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিনের সাথে আলোচনাক্রমে ব্যানার তৈরি করেছেন। ব্যানার নিয়ে যারা কথা বলছেন তা অযৌক্তিক। উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরীকে চেয়ারম্যান হিসেবে দাওয়াত দেয়া হয়েছে এবং মঞ্চে আসন দেয়া হয়েছে। তাছাড়া তাকে দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতিও এড্রেস করেছেন। কমিটি গঠনের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার ও পরবর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে তিনি বলেন, তিনি নিজেই কথা দিয়েছিলেন এবং তা করবেন। সময়ের অভাবে ইফতার মাহফিলের আগে তা করা সম্ভব হয়নি। এখানে ভুল বুঝাবুঝির কোন অবকাশ নেই।
তিনি বলেন, তিনি একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নেত্রীর দেয়া দায়িত্ব নিয়ে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আ’লীগের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন। তিনি বলেন, কোন দুর্নীতি করিনি, সরকারের দেয়া বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যবহার করেছি। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি। তবে যারা অপপ্রচার করছে তারা একটি অপরপক্ষকে রাজনীতিতে আসতে দেখে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে মাত্র।
আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন যিনিই পান, এমনকি ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন আহমদ মনোনয়ন পেলেই তাঁর পক্ষে কাজ করবেন, নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য। অপরদিকে দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে গত ১৭ জুন বিকালে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের বাসভবনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যে কথাগুলো হয়েছে তিনি বাস্তবায়ন করেন নি। কথা ছিল উপজেলা আ’লীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন হবে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এমপি থাকবেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান যেহেতু আ’লীগের কোন পদ-পদবীভুক্ত ব্যক্তি নয়, সে হিসেবে তিনি অনুষ্ঠানে অতিথি থাকতে পারবে না। পাঁচ বা সাত সদস্য কমিটির মাধ্যমে উপজেলা আ’লীগের কার্যক্রম ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের কথা বললেও সে ধরনের কোন কমিটি করেন নি, মামলা প্রত্যাহারের কোন পদক্ষেপও তিনি গ্রহণ করেন নি। তিনি বিষয়টি দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতিকে অবহিত করেছেন বলে জানান। সে সাথে আগামী দিনে সময় আসলে রাজনৈতিকভাবে এ সকল পদক্ষেপ নিয়ে কথা হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের পৃথক পৃথক ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন আহমদ গত ১৬ জুন ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য আবু আহমদ জুনু, পৌর মেয়র মাহবুবুল আলম খোকা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মাহবুর রহমান চৌধুরী, এড. নজরুল ইসলাম সেন্টুসহ ব্যাপক আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে একটি ইফতার মাহফিল করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
সে ধারাবাহিকতায় পরদিন ১৭ জুন বিকালে উপজেলা আ’লীগের সভাপতির চন্দনাইশ সদরস্থ বাসভবনে নেতা-কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য শুনেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী। পরবর্তীতে সুসংগঠিতভাবে আ’লীগকে এগিয়ে নিয়ে ইফতার মাহফিল সফল করার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রতীকের প্রার্থীকে জয়ী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সে দিনের সে মিলনের আভাস যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি গত ২০ জুনের ইফতার মাহফিলে। আ’লীগের একটি অংশ অনুপস্থিত থেকে আ’লীগের ঐক্যকে কিছুটা বিঘ্নিত করেছে। বিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের মতে-চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) আসনটি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করলে ফলাফল ভিন্নতর হতে পারে।
কারণ এক সময়ের রাজপথ কাঁপানো একক আধিপত্য বিস্তারকারী বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য, এলডিপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, প্রাক্তন মন্ত্রী আলহাজ্ব ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বিধায় আসনটি নৌকা প্রতীকের পক্ষে নিতে সুসংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে আ’লীগকে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে কর্নেল অলি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের আনাচে-কানাচে নেতা-কর্মী সৃষ্টির পাশাপাশি শুভানুধ্যায়ী সৃষ্টি করেছেন। সে বলয় থেকে বেরিয়ে আনতে হবে ভোটারদের। তুলে ধরতে হবে আ’লীগের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, উপস্থাপন করতে হবে প্রার্থীর কার্যক্রম, সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতা। সব মিলিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি একটি রাজনৈতিক মাঠে আ’লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
