সিটিনিউজ ডেস্ক::সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়ায় সর্বোচ্চ আদালতের প্রশংসা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘এই রায়ের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।’
বিচারক অপসারণ ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে দিয়ে ২০১৪ সালে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী এর আগে ২০১৬ সালের ৫ মে অবৈধ ঘোষণা করেছিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এই রায়ের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আজ সোমবার খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারক অপরাসণের ক্ষমতা সংসদের হাতেই ছিল। তবে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনের সময় সংবিধান সংশোধন করে এই ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে দেয়া হয়।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে করা পঞ্চম সংশোধনীও আদালত অবৈধ ঘোষণা হয়েছে। তবে আপিল বিভাগ বিচারক অপসারণ বিষয়ক এই বিধানটির পক্ষেই তাদের অবস্থান জানালো।
আপিল বিভাগের রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সরকার চেয়েছিল আদি সংবিধানে ফিরে যেতে। কিন্তু সামরিক শাসনামলে করা বিধান আপিল বিভাগ বহাল রাখায় তিনি হতাশ এবং দুঃখিত
তবে উল্টো প্রতিক্রিয়া জানালেন বিএনপি নেতা রিজভী। রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর দলীয় কার্যালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই রায়ে জনগণের বিজয় হয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘সরকার বিচারবিভাগকে করায়ত্ত্ব করার যে দুরভিসন্ধি করেছিলো, তা ব্যর্থ হলো।’
‘রাষ্ট্র পক্ষের আপিল খারিজ করে দেয়াতে বিএনপি মনে করে জনগণের বিজয় হয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘বর্তমান জাতীয় সংসদের যে কম্পোজিশন তাতে উচ্চ আদালতের বিচারকগণের অপসারণ করার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত থাকলে সেখানে চরম দলীয় কর্তৃত্বের প্রতিফলন ঘটতো এবং নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার ক্ষুন্ন হতো।’
‘বিচারকগণকে নানাভাবে প্রভাবিত করতে তারা চাপ প্রয়োগে সুযোগ পেত। কিন্তু সু্প্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংসদের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের আদালতের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তেক্ষেপের নিশ্চিত সম্ভাবনা দূরীভূত হলো।’
এসময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুককে কারাগারে পাঠানোর নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
