গুপ্তছড়া – কুমিরা নৌপথে যাত্রী দুর্ভোগ বন্ধের দাবি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:: গুপ্তচরা-কুমিরা নৌপথে যাত্রী দুর্ভোগ বন্ধ ও চলমান নৈরাজ্য প্রতিকারের দাবি জানিয়েছে সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলন ।

শুক্রবার (৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সন্দ্বীপে গমনকারী চাকুরীজীবি, পেশাজীবি, নারী শিশুরা সহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ গুপ্ত চরা ঘাটে মানব সৃষ্ট দুর্ভোগ ও নৈরাজ্যের শিকার হয়ে সন্দ্বীপে আটকা পড়ে। যাত্রী সাধারণ দুর্ভোগের শিকার হয়ে প্রতিবাদ মুখর হলে জেলা পরিষদের ইজারাদারের লোকজন চার জন নিরীহ যাত্রীকে মারধর করে থানা হাজতে প্রেরণ করে।

স্বাধীনতা পরবর্তী কাল থেকে সব ঈদে কমপক্ষে পাঁচ দিন বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ যাত্রী পারাপার করে। এবার ঘোষণা দিয়েও রহস্যজনক ভাবে বিকল হওয়ার অজুহাতে জাহাজ বন্ধ করে রাখা হয়। সুদুর অতীতকাল থেকে আমরা দেখছি ঘাট ইজারাদারের প্রত্যেক্ষ তত্ত্বাবধানে টিকেট বিক্রি ও যাত্রী উঠানামা করা হত। অজ্ঞাত কারণে ঈদ মৌসুমে জেলা পরিষদের ইজারাদার টিকেট বিক্রিও যাত্রী উঠা-নামায় প্রত্যেক্ষ কোন তদারকি করেননি। প্রত্যক্ষ তদারকী না থাকার কারণে টিকেট দালাল চক্রের হাতে চলে যায়। যাত্রী সাধারণ সকাল পাঁচ টায় লাইনে দাঁড়িয়েও বিকেল পর্যন্ত টিকেট পাননি। ক্ষেত্র বিশেষে ৩০০ টাকার টিকেট ১০০০ টাকায় ক্রয় করতে বাধ্য হয়েছে যাত্রীরা। এমতাবস্থায় হাজার হাজার চাকুরীজীবী পেশাজীবি সন্দ্বীপে আটকা পড়ে। এখনো অনেকে আটকা পড়ে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল ১৭ লাল বোট উল্টে প্রশাসনের ভাষ্যমতে ১৮ জন অন্যান্য সূত্র মতে ২৩ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও ঘাট সিন্ডিকেটের চাপে কেউ মামলা করতে সাহস করেনি। মামলা না হওয়ায় ইজারাদারের লোক জন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। এখনো ঘাটে বখশিসের নামে নৌকা নদীতে ঘুড়ানো হয়। উল্লেখ্য, ২ এপ্রিল বখশিস আদায় করতে গিয়ে অযথা নৌকা ঘুড়াঘুড়িতে লাল বোট উল্টে ১৮ জন মতান্তরে ২৩ জনের প্রাণ হানি ঘটে।

হাজার হাজার মানুষ সন্দ্বীপে আটকা পড়লেও প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিসি ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিষয়টি সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন-সন্দ্বীপ এডুকেশন সোসাইটি চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ বারী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম ইদ্রিস আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ শোয়েব উদ্দিন হায়দার, , বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ আরিফুর রহমান, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম, সন্দ্বীপ পাবলিক হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক এস.এম ফিরোজ খান, এক্সিম ব্যাংক লি. সন্দ্বীপ শাখার সাবেক ম্যানেজার মোঃ তসলিমুল আলম, মাসিক সজাগ সন্দ্বীপ সম্পাদক প্রভাষক ফসিউল আলম, চট্টগ্রাম স্পোর্টস্ একাডেমির সেক্রেটারি আয়কর আইনজীবী মোঃ আরিফ উল্ল্যা, লিও নজরুল ইসলাম জাবেদ, লিও কামরুল হাসান রনি, লিও আব্দুর রহমান তারেক, সন্দ্বীপ উপজেলার যুবলীগ নেতা এস.এম. সাজ্জাদ, সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জিহাদ বাবু, লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল ষ্টাডিজে অধ্যায়নরত সোহরাওয়ার্দী আরাফাত খান প্রমুখ।

সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন মাসিক গাঙচিল সম্পাদক মোঃ হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.