নিজস্ব প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রহুল আমীন বলেছেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে যেসমস্ত বাসিন্দা আছে তাদের অতিসত্তর নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হবে। তিনি সোমবার(১০জুলাই) তার কার্যালয়ে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন। সরকারি জমি পাহাড়ের পাদদেশে হলে অথবা ঝুঁকিপূর্ণ হলে লিজ নেওয়া বা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। পাহাড়ের কাছে অবৈধভাবে যারা বসবাস করছেন তাদের তালিকা করে পূনর্বাসন করার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৬শ ৬৬টি পরিবার রয়েছে। নগরীর বেশীর ভাগ পাহাড় বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন। এ সমস্ত পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসরতদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নগরীর ২৮টি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ এর মধ্যে ৫টি’তে অতিসত্তর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। মতিঝর্ণা পাহাড় ও বাটালি হিল, টাইগারপাস-লালখান বাজার পাহাড়, ফয়েস লেক আবাসিক এলাকা এবং ইস্পাহানী পাহাড়। বাংলাদেশ রেলওয়ে মালিকানাধীন নগরীর লালখান বাজারের মতিঝর্ণা পাহাড়ের ২৬ একক জায়গায় ২০৪১টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এর মাধ্যে কাঁচাঘর থেকে শুরু করে ৫ তলা ভবন ও রয়েছে। এসব স্থাপনার অবৈধ দখলদার ৬ হাজারেরও অধিক।
সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল জলিলসহ রেলওয়ে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ কমিশনার, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সেনা সদস্য, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
