পশু আছে হাটে , দেখা নেই পর্যাপ্ত ক্রেতার

0

সাইফুল উদ্দীন, সিটিনিউজ, রাঙামাটি ::চাঁদ দেখা কমিটি আগামী ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। মুসলিমদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাঙামাটি ট্রাক টার্মিনাল বসেছে কোরবানি পশুর হাট। প্রতি বছর রাঙামাটির দুই থেকে তিনটি স্থানে কোরবানি পশুর হাট বসলেও এইবার শুধু মাত্র একটি স্থানে বসেছে এই পশুর হাট। শনিবার কোরবানি পশুর হাটের প্রথম দিন, তাই ট্রাক টার্মিনালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৪-৫ শত গরু এবং শত খানিক ছাগল থাকলেও প্রথম বাজারে দেখা নেই পর্যাপ্ত ক্রেতার।

হাটে আসা গরু ব্যবসায়ি মো: নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি লংগদু মাইনি থেকে ৬০টি গরু এবং ১০টি ছাগল নিয়ে এসেছি। শনিবার প্রথম বাজার উপলক্ষে তেমন কোন ক্রেতার দেখা নেই। আশা করছি আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে ভালো ক্রেতার দেখা পাবো। তবে পাহাড় ধসের প্রভাব পরবে বলে আশংঙ্খা জানিয়ে তিনি বলেন, রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ফলে দীর্ঘ দিন সকল ব্যবসা বন্ধ ছিলো। ফলে যারা কোরবানি মূল ক্রেতা তারাও এইবার তেমন একটা পশু কিনবে না বলে আশংঙ্খা করছি।

তিনি জানান, তার নিয়ে আসা গরুর মূল্য ৫০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা এবং ছাগল ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ শফিক বলেন, আমি সুবলং থেকে ৮টি গরু নিয়ে এসেছি। এই পর্যন্ত অনেক ক্রেতাই দেখেছে কিন্তু অন্যবারের মত এইবার ক্রেতাদের মধ্যে উৎসাহ দেখছি না। প্রতিটি গরুর মূল্য ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছি।

তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি মূল ক্রেতা হচ্ছে গাছ ব্যবসায়িরা। গত কিছুদিন পূর্বে রাঙামাটিতে সংগঠিত হওয়া পাহাড় ধসের কারণে গাছ ব্যবসা বন্ধ ছিলো দীর্ঘ দিন। তাই এইবার কতটা বিক্রয় হবে তা নিয়ে আমরা আশংঙ্খায় আছি।

সুপ্রিয় চাকমা বলেন, আমি ৬টি গরু নিয়ে সুবলং থেকে এসেছি। গরুর মূল্য ৫০ থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। গত কয়েক বছর প্রথম বাজারে যেভাবে ক্রেতাদের ভির দেখেছি কিন্তু এইবার তেমন ক্রেতা নেই। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে ক্রেতার দেখা মিলবে।

গরু ব্যবসায়ি মোহাম্মদ নুরু মিয়া বলেন, রাঙামাটি বাজারে যে পরিমাণে গরু আছে তা এখানের জন্য পর্যাপ্ত তাই আমি গরু চট্টগ্রামে নিয়ে যাচ্ছি। পাহাড় ধসের কারণে যোগাযোগে কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও শালবন এলাকায় বেইলি ব্রিজ হওয়ায় তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না এবং রাস্তার কোন প্রকার চাঁদাবাজির সন্মুখিন হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
গরু বাজারে আসা ক্রেতা ইমাম হোসেন বলেন, শনিবার হচ্ছে কোরবানি বাজারের প্রথম দিন। তাই এসেছি গরুর মূল্য দেখতে। বাজারে পর্যাপ্ত গরু আছে তবে যে মূল্য তারা দিচ্ছে তা হাতের নাগালের বাহিরে। আশা করছি আগামী কয়েকদিন গেলে মূল্য কিছুটা কমতে পারে।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষ কোরবানি গরু কিনে কোরবানি কয়েকদিন আগে কারণ গরু রাখা এবং লালন-পালন করার কিছু সমস্যা আছে। তাই কোরবানির কয়েকদিন আগে গরু ক্রয় করবেন বলে জানান এই ক্রেতা।

অন্য ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাজারে কোনবানির পশু আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। কিন্তু দাম দিচ্ছে অধিকমাত্রায়। তাই আপাতত কয়েকদিন দেখবো। দেখা যাক দাম কমে কিনা।
ট্রাক টার্মিনালের ইজারাদার সাওয়াল উদ্দিন বলেন, রাঙামাটিতে এবার একটি মাত্র কোরবানি পশুর হাট বসেছে। এই হাটে পর্যাপ্ত গরু এবং ছাগল রয়েছে। প্রথম বাজার অনুসারে মোটামোটি ক্রেতার ভির লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে ক্রেতার ভির আরো বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, পাহাড় ধসের ফলে কিছুটা প্রভাব পরতে পারে এইবার কোরবানি হাটে। কারণ রাঙামাটি প্রায় কোরবানি পশুর ক্রেতা হচ্ছে গাছ ব্যবসায়ি সহ বড় বড় সওদাগর। কিন্তু পাহাড় ধসে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ ছিলো। তবুও আশা করছি তেমন একটা খারাপ হবে না। প্রতি হাজারে ২০ টাকা হাসিল ধরা হলেও সে পরিমাণে নেওয়া হচ্ছে না। সবকিছু মিলে ৭-৮ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে হাজারে বলেও জানান তিনি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.