আনোয়ারায় হাটে আসছে প্রচুর গরু : জমে উঠেনি বেচাকেনা

0

জাহেদুল হক,আনোয়ারা::আনোয়ারায় কোরবানি পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। হাটে আসছে প্রচুর কোরবানির পশু। তবে সাধারণ ক্রেতাদের তুলনায় হাটে পাইকারী ক্রেতা বা ব্যাপারীদের তৎপরতা এখন বেশি। ব্যাপারীরা এখানকার হাটগুলো থেকে কোরবানির পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম নগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিক্রেতারা বলছেন,ঈদের দুই-তিনদিন আগে কোরবানি পশুর বেচাকেনা আরো বাড়বে। সেই সাথে উপজেলার প্রায় সব হাটেই অতিরিক্ত হাসিল (খাজনা) আদায়ের অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

সরকারি নির্দেশনা থাকলেও উপজেলার কোন হাটেই টানানো হয়নি হাসিলের তালিকা। এদিকে গরুর দাম বেশি হবার ফলে বিক্রেতারা খুশি হলেও ক্রেতারা পছন্দসই গরু কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। চাঁদাবাজি,ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠনসহ হাটগুলোতে জাল টাকা নিরূপনে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ বুথ। তবে ফড়িয়া দালালদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না প্রায় কেউই।

স্থানীয় সূত্র জানায়,উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে ১০টির বেশি কোরবানি পশুরহাট বসেছে। তারমধ্যে সরকারহাট ও রুস্তমহাট ছাড়া বাকি সব পশুরহাট অননুমোদিত। এসব পশুরহাটে সরকারি নিয়ম নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া ট্রাকভর্তি পশুর উঠা-নামায়ও হচ্ছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। এতে করে ক্রেতা-বিক্রেতারা তো ঠকছেনই সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব।
সরেজমিন সরকারহাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের গরুর দাম হাঁকানো হচ্ছে ৩০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা,মাঝারি সাইজের গরু ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা,বড় সাইজের গরু ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে এবার সরকারহাটে সবচেয়ে বড় ৪টি গরুর দেখা মিলেছে। জহির আহমদের দুটি দেশি গরুর দাম হাঁকিয়েছে ১২ লাখ টাকা। ৬ লাখ টাকায় গরু দুটি একজন ক্রেতা চাইছেন। তবে ৮ লাখ টাকা পেলেই বিক্রি করে দেবেন তিনি।

অপরদিকে বেলাল সওদাগরের দুটি ভারতীয় গরুর দাম হাঁকিয়েছে ১৪ লাখ টাকা। গরুর পাশাপাশি ছাগলের দামও চড়া। ছোট সাইজের ছাগল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা,মাঝারি সাইজের ছাগল ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা ও বড় সাইজের ছাগল ২২ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মহিষের দামও বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। দাম বেশি হওয়ার কারণে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ক্রেতারা গরু বা ছাগল ক্রয় করতে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে তাল মিলাতে পারছেন না। তাই অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত বাজার দর পরখ করে তবেই পছন্দের পশুটি কিনতে চান।

সরকার হাটে পাইকারী গরু কিনতে আসা নগরের ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ জানান,প্রয়োজনের তুলনায় ভারতীয় গরু হাটে আমদানি কম। দেশি গরুর আমদানি বেশি হলেও দাম চড়া। তার মতে,গত বছরের তুলনায় এবার গরুপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পশু বেচাকেনার জায়গা সরকার হাট। এই হাটের ইজারাদার খোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান,ভারত থেকে গরু না এলেও কোরবানি পশুর এবার সমস্যা হবে না। এ অঞ্চলের খামারীদের কাছে যে পরিমাণ গরু আছে,তাতেই চাহিদা মিটবে। তবে গরুর দাম একটু চড়া। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে কেউ যেন প্রতারিত না হয় সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিনও রাখা হয়েছে এ বাজারে।

আনোয়ারা থানার সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা বলেন,বাজারে এখনো পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ টিম সক্রিয় আছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.