নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিনিউজ::রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর ধরণীতে আগমনের দিন (সৌরবার্ষিকী অনুযায়ী) ৫৭০ খৃষ্টাব্দ ২৯ আগস্ট স্মরণে ‘মহান নবী দিবস’ উদযাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে নবী দিবসের উদ্যোক্তা আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.)।
স্মারকলিপিতে যত দ্রত সম্ভব উক্ত বিশ্ব নবীর (সাঃ) শুভাগমনের দিন তথা ২৯ আগস্টকে বিশ্বব্যাপী পালনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
গত ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লেখা এ স্মারকলিপি জাফর ছাদেকের কাছ থেকে গ্রহণ করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক স্মারকলিপিটি গুরুত্ব সহকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন বলে জানান। স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার হিসেবে নবীজির আবির্ভাবের দিনটি ছিল ৫৭০ ইংরেজির ২৯ আগস্ট। আধুনিক যুগের সে সকল সর্বজন শ্রদ্বেয় লেখক ও গবেষকগণ নবী (সাঃ) এর আবির্ভাব দিবসটি স্বীয় গ্রন্থে আগস্ট ২৯, ৫৭০ বলে উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত ইসলামিক অনলবর্শী বক্তা প্রয়াত আহমদ দীদাতের গ্রন্থ ‘মোহাম্মদ দ্যা ন্যাচারাল সাকসেসর অব ক্রিস্ট’ এবং স্যার ছৈয়দ আমির আলীর ‘দ্যা স্প্রিট অব ইসলাম’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
এছাড়াও বর্তমান সরকারের মাদ্রাসা বোর্ডের নবম শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস বইয়ের ২৬ পৃষ্ঠায় নবীজির আবির্ভাব দিনটি ৫৭০ খৃষ্টাব্দ ২৯ আগস্ট ১২ রবিউল আওয়াল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও এটি ঐতিহাসিক সত্য যে, প্রিয় নবী (দঃ)’র যুগে আরবি ক্যালেন্ডার ছিল না। তা প্রবর্তিত হয় তাঁর ওফাতের নয় বছর পর।
অন্যদিকে আমরা বাংলা সংস্কৃতি-প্রেমীরা বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নবীর আবির্ভাবের দিনটি পালনে ইচ্ছুক হলে তা ১২ বা ১৪ ভাদ্র পালন করতে পারি। কিন্তু একমাত্র ইংরেজি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ছাড়া অন্য কোনটি বিশ্বের সর্বত্র প্রচলিত নয় এবং এটি নবী (দঃ)’র আগমনকালে ৫৭০ বছরের প্রতিষ্ঠিত একটি দিন পঞ্জিকা।
তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরজি জানিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, তিনি যদি উক্ত দিনটির গুরুত্ব অনুধাবন করে নবীজির আগমনী দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের উদ্যোগ নেন এবং জাতিসংঘের কাছে উক্ত দিনটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করার অনুুরোধ করেন তাহলে তাঁর এই পদক্ষেপ বিশ্ববাসী অনন্তকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
