মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ::দেশের আলোচিত মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের প্রথম হাওয়া এভ্রিলের মুকুট চলে যায় বিবাহিত হাওয়ার কারণে। তার সে প্রাক্তন স্বামী চন্দনাইশ সদর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ি মনজুর উদ্দীন রানা এখন কেমন আছে ?এ প্রশ্ন এখন অনেকের মনে ।
জানা যায়,দেশের আলোচিত মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের প্রথম হাওয়া জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের গ্রামের বাড়ী চন্দনাইশের বরমা রাউলিবাগে। তার পিতা একজন স্কিম ম্যানেজার। চার ভাই-বোনের মধ্যে এভ্রিল সবার ছোট। ২০১৩ সালে এস.এস.সি পরীক্ষা দেয়ার পর পর ফলাফল প্রকাশের আগে এভ্রিলের সাথে চন্দনাইশ পৌরসভা সদরস্থ হাজির পাড়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মনজুর উদ্দিন রানার সাথে ৮ লক্ষ টাকা দেন মোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়েতে এভ্রিলের মত ছিল না বিধায় বিয়ের ১সপ্তাহ পর বাপের বাড়িতে গেলে এভ্রিল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বিয়ের ২ মাস পরে নগরীর লালদিঘীর পাড়স্থ ফৌজিয়া হোটেলে উভয়ের সম্মতিক্রমে তালাকনামা সম্পন্ন হয়। এর পর থেকে এভ্রিল আর বাড়ি ফিরে যায়নি। হঠাৎ করে এভ্রিল যখন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের তালিকায় প্রথম হাওয়ার ছবি দেখে হিংসায় জ্বলে উঠে তারই প্রাক্তন স্বামী মঞ্জুর- উদ্দিন রানা।
সামাজিক প্রচার মাধ্যম ফেইসবুকে তার বিয়ের ছবি দিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতে থাকে। ফলে প্রিন্ট এবং ইলেক্টিক মিডিয়া বিষয়টি লোপে নেয়। এভ্রিলের প্রাক্তন স্বামী মনজুরের কাছে বিভিন্ন মিডিয়ার লোকজন আসতে থাকে,তার বক্তব্য ও বিভিন্ন ছবি নিয়ে প্রচার মাধ্যমে ঝড় তোলে। অবশেষে এভ্রিল তার বিয়ের কথা গোপন করার বিষয়টি স্বীকার করলে তার সে আঙ্কাকিত স্বপ্নের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ মুকুটটি পেয়ে যায় রানার্স-আপ’র জেসিয়া ইসলাম। জান্নাতুল নাঈম হারালো তার সে স্বপ্নের মুকুট। কি পেল তার প্রাক্তন স্বামী মনজুর। এ ব্যাপারে মনজুরের সাথে কথা বললে সে আতংকে রয়েছে বলে জানা যায়। মনজুর বিয়ের ১ সপ্তাহ পর সে বিশ্ব সুন্দরি স্ত্রীকে হারিয়ে অবশেষে ২ মাসের মাথায় তালাক দিতে হয়। এর ১ বছর পর একই গ্রামের মো. সোলাইমানের মেয়ে লাভু আকতারকে বিয়ে করে মনজুর। তার সাথে ৬মাসের মাথায় পুনরায় ৪ লক্ষ টাকা দেন মোহর পরিশোধ করে তালাক সম্পন্ন হয়। বর্তমানে সে তৃতীয় বারের মত বিয়ের পিড়িতে বসার স্বপ্ন দেখছে।
এদিকে লাভু আকতার ২য় বিয়ের পর তার সংসারে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। জানতে চাইলে মনজুর জানাই তার ২য় স্ত্রী লাভু আকতার কিছুটা মানুষিক রোগী ছিল, বিধায় তার সাথে তালাক হয়েছে। তার প্রাক্তন স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমের ডাক নাম ছিল আমেনা। তাকে তার সহপাঠিরা আমেনা পাগলি বলে ডাকত। সে বিয়ের পরে এ বিষয়টি জানতে পেরেছে। বিয়ের ১ম রাত থেকে তার সাথে এভ্রিলের ভালো সম্পর্ক ছিল না বলে সে জানায়। জান্নাতুল নাঈম বাড়িতে থেকে চলে যাওযার পর নিজের ডাকনাম আমেনা পরিবর্তন করে এভ্রিল দিয়েছে। এটা তার নিজস্ব দেয়া নাম। মনজুর বর্তমানে সদর বাজারে ভি.আই.পি ক্লর্থ ষ্টোর নামীয় দোকানে বসে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছে। নিজের উপার্জিত টাকায় দ্বিতল বিশিষ্ট পাকা দালান। নতুন ভাবে চন্দনাইশ সদরে ৬ গন্ডা জায়গা ক্রয় করে মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে ব্যবসাকে আরো সু-প্রতিষ্টিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে এভ্রিলের মুকুট হারানোর পর থেকে কিছুটা আতংকে রয়েছে। ব্যবসায়িক বাজারের প্রয়োজনে বর্তমানে সে চট্টগ্রাম শহরে যেতে ভয় পাচ্ছে। তাছাড়া তার তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী এভ্রিল তার নিকট থেকে কোন সময় কাবিনের টাকা দাবি করেনি।
এখন এ পরিস্থিতির কারণে হয়তো কাবিনের টাকার জন্য মামলা করে কিনা সে নিয়েও চিন্তা কম নেই মনজুরের। সব মিলিয়ে মনজুর কিছুটা চিন্তিত বলে মনে করছেন পাঠক সমাজ। তার সাথে কথা বললে সে সব কিছু এরিয়ে যেতে চেষ্টা করে,কিছুটা ভয়ে আছে এমনটা দেখায় যায় মনজুরকে দেখলে।
