এমপি বদি এবার পেটালেন প্রকৌশলীকে 

0

জামাল জাহেদ, কক্সবাজারঃ মাসিক সাধারণ সভায় যোগ না দেয়ায় উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজকে পেটালেন সরকার দলীয় প্রভাবশালী (!) এমপি আব্দুর রহমান বদি।১২ আগষ্ট বুধবার বেলা এগারটার দিকে উপজেলা কম্পাউন্ডেই এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সর্বত্র নিন্দার ঝড় ওঠেছে।উপজেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, সকালে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা ছিল। সেসভায় না গিয়ে নিজ অফিসে কাজ করছিলেন প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ। সভায় আসার জন্য তাকে কয়েকবার খবর পাঠান এমপি বদি।

এরপরও তিনি না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল বিশ্বাসকে সাথে নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে যান। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এমপি বদি। পরে সভায় যোগ দেন প্রকৌশলী মিনহাজ।মারধরের শিকার প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা ছিল সকাল এগারটায়।

এর আগে প্রয়োজনীয় কিছু দাপ্তরিক কাজ সেরে নিতে পাঁচ মিনিট বিলম্ব হয়। ইত্যবসরে এমপি বদি আফিসে ঢুকে আমার গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন। এরপর শার্টের কলার ধরে তাকে এদিক সেদিক টানা হেঁছড়া করতে থাকেন।

এমনকি বিলম্বের কারণও জিজ্ঞেস করেননি তিনি (এমপি বদি)।কয়েকজন কর্মচারীর বরাত দিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী জানান, সভায় উপস্থিত হতে বিলম্বের অজুহাতে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেছে বলে অনেকে আমাকে জানিয়েছে।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সকালে প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ নিজ অফিসে কাজ করছিলেন। এসময় এমপি বদি তার কক্ষে ঢুকে এলোপাতাড়ী কিলঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। টানাহেঁছড়ায় তার পরনে শার্টের কয়েকটি বোতামও ছিঁড়ে যায়।ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল বিশ্বাসসহ উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ইউএনও হিল্লোল বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে চাইলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।এমপি বদিকে কয়েককবার কল করেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তো আছে। বৈঠকে না গেলে এমপি বদি সেখানে অভিযোগ করতে পারতেন।

কিন্তু তিনি তা না করে একজন সরকারী কর্মকর্তাকে মারধর খুবই দুঃখজনক।অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এই সংসদ সদস্যের হাতে এর আগেও মুক্তিযুদ্ধা, আইনজীবী, ব্যাংক কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড, বন বিভাগের স্টাফ, শিক্ষকসহ সরকারী-বেসরকারী বহু ব্যক্তি মারধর ও লাঞ্চনার শিকার হন।এমনকি দলীয় নেতাকর্মীরাও এমপি বদির রোষানল থেকে রেহায় পায়নি। এ নিয়ে দলের ভেতরে বাইরে প্রচুর সমালোচনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.