চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ঐকান্তিক আগ্রহে ২৩৩ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য ১৪ তলা বিশিষ্ট ৭টি ভবন নির্মাণ করা হবে। চসিকের নিজস্ব জায়গায় এ সকল ভবন নির্মিত হলে ৮৩২টি সেবক পরিবার স্থায়ী ভাবে আবাসনের ঠিকানা পাবে। তিনি বলেন, একই প্রক্রিয়ায় আরো আবাসন গড়ে তোলা হবে।
মেয়র বলেন, ডোর টু ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের জন্য ১ হাজার ৭শত ১৪ জন নিয়োগপ্রাপ্ত সেবকের মধ্যে প্রায় ৮শত জন হরিজন সম্প্রদায় এবং ৬ জন হিজড়া সম্প্রদায় থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একই প্রক্রিয়ায় আগামীতেও নিয়োগ দেয়া হবে। জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহনের পর অস্থায়ী শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি, ঈদের উৎসব বোনাস, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উৎসাহ ভাতা প্রদান, ইউনিফরম, জুতা, শীত বস্ত্র, মাস্ক, গ্লাভস ও নিরাপত্তা সামগ্রীসহ নানাভাবে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।
কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী শ্রমিক কর্মচারীদের এককালিন ২ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়ার নিয়ম অব্যাহত আছে। চাকুরী থেকে অবসরে যাওয়ার সময় থেকে কয়েক মাসের মধ্যে যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। ২০০৫ সন থেকে ২০১৪ সন পর্যন্ত সময়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের সমুদয় পাওয়া পরিশোধ করা হয়েছে। ২০০৫ সন থেকে ২০১০ পর্যন্ত ঠিকাদারদের ২৮০ কোটি টাকা পাওনা থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, আগামীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এপার্টমেন্টে নির্মাণ খরচে শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেয়া হবে। অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর খালি পদ সমূহ জৈষ্ট্যতার ভিত্তিতে স্থায়ী করা হবে। শ্রমিক কর্মচারীদের পোষ্য নিয়োগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। শ্রমিক কর্মচারীদের সন্তানদের পড়ালেখার সুবিধার্থে চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে বিনাবেতন, অর্ধ বেতনে পড়ালেখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এমনকি অসচ্ছল ও অক্ষমদের সন্তানদের ভর্তি এবং পরীক্ষার ফি মওকুফ করা হয়েছে- এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, কর্মরত অবস্থায় শ্রমিক কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে তার লাশ পরিবহন, দাফন, কাফন ও সৎকার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের খরচে নির্বাহ করা হচ্ছে। চসিক পরিচালিত দাতব্য চিকিৎসালয়, মাতৃসদন ও চিকিৎসাকেন্দ্রে শ্রমিক কর্মচারীদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এ ধারা সামনেও অব্যাহত থাকবে বলে শ্রমিক কর্মচারীদের আশ্বস্থ করেন। তিনি বলেন, শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষনে সর্বধরনের সুযোগ সৃষ্টি করার বিনিময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তাদের কাছে সর্বোচ্চ সেবা প্রত্যাশা করছে। পরিচ্ছন্ন বিভাগ সহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও কর্মের উপর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি নির্ভর করছে। পরিচ্ছন্ন ও আলোকিত নগরী চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা। নাগরিক প্রত্যাশা পূরণে কোন ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা ফাঁকিবাজি গ্রহণযোগ্য হবে না ।
তিনি সকলকে সততার সাথে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে আহবান জানান। ১৯ নভেম্বর রবিবার দুপুরে নগরভবনের বঙ্গবন্ধু চত্বরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শ্রমিক কর্মচারী লীগ সিবিএ’র নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক এবং শ্রমিক কর্মচারী নেতৃবৃন্দের অবসরে যাওয়া ৬জন নেতৃবৃন্দের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে মেয়র এ আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিবিএ’র সভাপতি ফরিদ আহমদ। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান ও বিপ্লব কুমার চৌধুরীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদ আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফর আলী, মহানগর শাখার সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য ভিপি আবু জাফর, আবদুল লতিফ টিপু, কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, মো. গিয়াস উদ্দিন, এ এফ কবির আহমেদ মানিক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, হাবিবুল হক, শৈবাল দাশ সুমন, জহুরুল আলম জসিম, মিসেস আঞ্জুমান আরা বেগম, আবিদা আজাদ, শ্রমিক নেতা শফি বাঙালি, সিবিএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম চৌধুরী, সহ-সভাপতি রুপন কান্তি দাশ, মো. ইয়াছিন চৌধুরী, সহ সাধারণ সম্পাদক রতন দত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মাসুদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খোরশেদুল আলম, অর্থ সম্পাদক মো. তারেক সুলতান, আইন বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আহমদ, প্রচার সম্পাদক সুভাষ চক্রবর্ত্তী, সহ প্রচার সম্পাদক রতন শীল, দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফা কামাল, সহ দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদুল আজিম সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্ত্তী সাপ্পি, সহ ক্রীড়া সম্পাদক কল্লোল দাশ বাপ্পী, সমাজসেবা সম্পাদক বাবুল কান্তি সেন, মহিলা সম্পাদিকা নমিতা রানী বিশ্বাস, নির্বাহী সদস্য আবদুল জব্বার, শেখ শহিদুল আলম, শফিকুল ইসলাম, হারুন উর রশিদ, মো. রফিক, দিলাবর দাশ, দিলীপ দাশ, যোগেশ দাশ, এলেন মুন্সি, পুলক কান্তি দে ও কৃষ্ণ দাশ উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে সংবর্ধিত অতিথিদের মধ্যে সিবিএ’র সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন আহম্মদ বাহাদুর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক, সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, সাবেক নির্বাহী সদস্য সমীর কর ও চিরিঙ্গী লাল দাশ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শ্রমিক কর্মচারী লীগ সিবিএ’র সদ্য বিদায়ী সভাপতি আলহাজ্ব দোস্ত মোহাম্মদ অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেনি। সিবিএ’র পক্ষ থেকে সংবর্ধিত সকল অতিথিদের ফুল, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সিবিএ’র সাবেক সভাপতি দোস্ত মোহাম্মদের পক্ষে ফুল, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী গ্রহন করেন সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সিবিএ’র নেতৃবৃন্দদের শপথবাক্য পাঠ করান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।
