আ’লা হযরতের রচনাবলী ভ্রান্তি রোধে এক নিয়ামক শক্তি

0

সিটিনিউজ ডেস্ক :   হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর মহান সংস্কারক আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (র.)’র ৯৯তম ওফাত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আজ ১৯ নভেম্বর রবিবার বিকেলে আ’লা হযরত কনফারেন্স চট্টগ্রাম মুসলিম ইনষ্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ সূফী তাত্বিক গবেষক, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আ’লা হযরত ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব সূফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ইতিহাসের এক ক্রান্তিকালে ইসলাম বিদ্বেষী ও বিকৃতকারীদের বহুমূখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মুসলিম মিল্লাত যখন বিপর্যস্ত তখন ১৮৫৬ সালের এমনি এক নাজুক সন্ধিক্ষণে ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ আ’লা হযরত (র.)’র আবির্ভাব ছিলো সময়ের দাবী ।

তাঁর আগমনে সত্যান্বেষী মুসলমানরা পেয়েছে মুক্তির দিক দর্শন । তাঁর অমূল্য গ্রন্থাবলী ইসলামী জ্ঞান ভান্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ। সুন্নিয়তের প্রচার-প্রসার ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে তাঁর জীবন দর্শনের ব্যাপক চর্চা ও গবেষণা বড় বেশী প্রয়োজন। কুরআন, হাদিস, তাফসীর, ফিকহ শাস্ত্র, ধর্মতত্ব, সূফীতত্ব, ভাষাতত্ব, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ নীতিসহ জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় তাঁর সদর্প বিচরণ, হানাফী মাযহাবের উপর লিখিত তাঁর ত্রিশ খন্ডের পঁচিশ সহস্রাধিক পৃষ্ঠা সম্বলিত বিশাল ফতওয়া গ্রন্থ ‘ফাতওয়ায়ে রেজভীয়্যাহ’ ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের এক প্রামাণ্য দলিল ।

ইসলামের মূলস্রোত সুন্নি দর্শনকে নিয়েই তাঁর জ্ঞান গবেষণার জগৎ বিণির্মিত। হুব্বে রাসূল তথা নবী প্রেমই ছিল তাঁর জীবন সাধনার মূল উপজীব্য। তিনি সুন্নি ঐক্যের প্রতীক, সুন্নিয়াত ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা । মুসলিম উম্মাহর এ ক্রান্তিকালে সংকট উত্তোরণে তাঁর জীবন-দর্শনের যথার্থ অনুসরণ জাতিকে সঠিক পথের দিশা দিবে। কনফারেন্স উদ্বোধন করেন পীরে তরীকত শাহসূফী হযরতুলহাজ্ব সৈয়্যদ মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা বারী (মু.জি.আ.) ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে প্রধান আলোচক ছিলেন আনজুমান রির্সাচ সেন্টার এর মহাপরিচালক ও আ’লা হযরত গবেষক হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান।

তিনি বলেন বিশ্বব্যাপী ইসলামের সঠিক রূপরেখা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রচার প্রসারে যুগে যুগে যেসব মহান মনীষীরা বিশ্বের সুন্নী জনতার কাছে চিরস্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন তাঁদের মধ্যে হিজরী চর্তুদশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ ইমাম আহমদ রেযা (রঃ) অন্যতম। মোঘল সম্রাট আকবরের দ্বীনে ইলাহীর মাধ্যমে উপমহাদেশের মুসলামানদের ধর্মীয় অঙ্গনে যে ফিতনা ফাসাদের গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রঃ) তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা এ বিরাট ফিতনা থেকে উপমহাদেশের মুসলমানকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন।

ঠিক একই ধারায় ইমাম আহমদ (রা.) ইংরেজ শাসন শোষণের দুর্যোগপূর্ণ মূহুর্তে এতদাঞ্চলের মুসলমানদের ঈমান, আক্বীদা, রাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি অঙ্গনে যে বিপ্লবী ভূমিকা পালন করেছেন তা আজ এক ঐতিহাসিক সত্যে পরিণত হতে চলছে। বিশেষতঃ ইংরেজরা এদেশে তাদের শাসন ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করে রাখার জন্য মুসলমানদের ইস্পাত কঠিন ঐক্যে ফাটল সৃষ্টির প্রয়াসে এক শ্রেণীর মৌলভীদেরকে দিয়ে উপমহাদেশের মুসলমানদের শত বছরের আক্বীদাগত অঙ্গনে এক নতুন ধর্মমতের প্রচলন করেন। তাদের মধ্যে ওহাবী, দেওবন্দী, কাদিয়ানী, রাফেযী, শিয়া ও নদভী অন্যতম। এসব বাতিল ফিরকার ভ্রান্ত মতবাদ থেকে উপমহাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের আক্বীদা, আমল হিফাযতে ইমাম আহমদ রেযা (র.) তাঁর যুগে নিজে একাই ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর লেখিত দেড়সহ¯্রাধিক গ্রন্থাবলী আজও মুসলিম উম্মাহর ঈমান আমল হিফাযতের রক্ষা কবচ বলা চলে। কনফারেন্সে মাসলকে আ’লা হযরতের প্রচার প্রসার ও গবেষণা কর্মে অবদান রাখায় পীরে তরীকত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ইলিয়াছ রেজভী (মু.জি.আ.)-কে আ’লা হযরত সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে শায়খুল হাদিস মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী (মু.জি.আ.), আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম.এ. মতিন, অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়্যদ মুহাম্মদ অসিয়র রহমান।

আলোচনায় অংশ নেন- শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা হাফেজ সোলায়মান আনছারী, শায়খুল হাদিস আল্লামা কাযী মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন আশরাফী, অধ্যক্ষ আল্লামা হারুনুর রশিদ, পীরে তরিকত মাওলানা হারুন উর রশিদ, এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ, ড. মুহাম্মদ কাউসার হামিদ, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তালেব, অধ্যাপক মুহাম্মদ রিদুয়ান আশরাফী, আলহাজ্ব মুহাম্মদ হানিফ, মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ আল হামিদি, পীরজাদা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ্, মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সেক্রেটারী আবু নাছের মুহাম্মদ তৈয়ব আলী। বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ সৈয়্যদ মুহাম্মদ খুরশিদ আলম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল আজিজ আনোয়ারী, মাওলান এ.এস.এম জালাল উদ্দিন ফারুকী, মাওলানা আরিফুর রহমান, মাওলানা জামাল উদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ জহির উদ্দিন, মুহাম্মদ আবদুর রহিম, মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ ইউনুস রিজভী, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, মাওলানা আবুল হাসানাত আলকাদেরী, মাওলানা ছগীর আহমদ আলকাদেরী, মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুচ তৈয়বী, ড. মাওলানা জিয়াউল হক, ক্বারী মাওলানা আনোয়ারুল হক, সৈয়দ আবু নওশাদ নঈমী, মাওলানা সোহাইল আনসারী, শায়ের মুহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, শায়ের মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ, ক্বারী হারুনুর রশিদ, মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, মাওলানা আবদুল ওয়াহাব, মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুর রহমান, মুহাম্মদ রিয়াজ হোসাইন, আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমূখ।

আলোচনা শেষে রজভীয়া নূরীয়া ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, তৈয়্যবিয়া সাংস্কৃতিক ফোরাম ও আল হাস্সান ইসালামী সাংস্কৃতিক ফোরাম’র নাত শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ মোশায়েরা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ক্বেরাত, হামদ ও না’ত প্রতিযোগিতা ও আ’লা হযরত (র.) এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় ৩৩ জন বিজয়ীদের কে ক্রেস্ট, মূল্যবান গ্রন্থাবলী ও সনদ পত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল নোমানী ও মুহাম্মদ এরশাদ খতিবী। পরিশেষে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ,শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে দু’আ, মুনাজাত ও তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে সেমিনারের সমাপ্তি হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.