নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিনিউজ :: মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এম.পি বলেছেন, সংবিধানের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নিয়ে কোন বিতর্কের অবকাশ নেই। যারা বিতর্ক সৃষ্টি করছে এরা এদেশকে আবার পাকিস্তানী ভাবধারায় পরিচালিত করতে চায়। এদেরকে আমরা প্রতিহত করার হিম্মত রাখি কেননা আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী শক্তি।
তিনি আরো বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বাঙালি জাতিসত্তার বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় এদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চালিয়েছি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে, বাঙালিকে হত্যা করেছে, মা-বোনদের নির্যাতন করেছে তারা এখনো ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্রের যারা হোতা তাদেরকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের প্রত্যককেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক বাছাই – যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা জাতিকে উপহার দেওয়া হবে। এই নিয়ে কোন সংশয় থাকা অবকাশ নেই।
আজ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি একথা বলেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার প্রতিষ্ঠাতা জননন্দিত আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনাকে প্রজন্ম পরম্পরায় ধারণ করার একটি ম তৈরী করে দেওয়ায় তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মূখ্য আলোচক চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ বলেন, নতুন প্রজন্মকে ধর্মান্দতার আগ্রাসন থেকে মুক্ত করতে হবে। তাদের সহজ-সবুজ তারুণ্যকে বিপথগামী করার জন্য একটি অপশক্তি কাজ করে যাচ্ছে। এই অপশক্তি মানবতা ও সভ্যতা বিরোধী।
তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারকে আবারো ক্ষমতায় আনতে আমাদেরকে এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একটি জ্ঞান ভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার আলোক শিখা জ্বালিয়েছেন তাই আমরা আশাবাদী।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন রাশেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব (অর্থ) পান্টু লাল সাহা, আকবর শাহ থানা কমান্ড মোহাম্মদ নুর উদ্দিন ও মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ খোকা।
পরে আলোচনা সভা শেষে তপন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
আগামীকাল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। উক্ত স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির জনগণকে উপস্থিত থাকার জন্য বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী আহবান জানিয়েছেন।
