নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দনাইশ :: উপজেলার জোয়ারা রাস্তা মাথা এলাকায় সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণ দুটি সিলিন্ডার দোকান, একটি ভাত ঘর,একটি গোদাউনসহ চারটি দোকান সম্পূর্ণ বষ্ণিভূত হয়। এতে ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয় বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়।
গতকাল ১৮ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার সময় উপজেলা জোয়ারা রাস্তার মাথা সংলগ্ন কা ননগর এলাকয় একটি গ্যাসের সিলিল্ডার দোকানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুণ লাগে। আগুনের লেলিহান শিকা পার্শ্ববর্তী আরও একটি গ্যাস সিলিন্ডার দোকান,খাগরিয়ার মারফলার জোনাইয়েদের ভাতঘর,গ্যাসের দোকান শো রুম,গোডানসহ চারটি দোকান আগুনে পুরে ভষ্ণিভূত হয়।
দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত আগুন চলাকালীন পটিয়া,সাতকানিয়া,আনোয়ারা,ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট দীর্ঘ আড়াইঘন্টা কাল চেষ্টা করে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ দীর্ঘ সময়ে পাশ্ববর্তী একটি পুকুরের সিংহভাগ পানি আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
আগুন নেভানোর সময় গ্যাস সিল্ডিার দোকানের মালিক সৈয়দাবাদের মঈদ্দীন বাপ্পি ১ কর্মচারী উত্তর হাশিমপুরের রজমান আলী (৩০) সি.এন.সি চালক সিরাজুল ইসলাম (৩২) পটিয়া ফায়ার সার্ভিস সাহেল রানা (৪৩) নুরুল ইসলাম (৪০) আহত হয়।
আহতদের মধ্যে রমজান ও সিরাজকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুইজনকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। আগুন জ্বলাকলীন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ ২/২.৫ কালব্যাপী যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। শত শত উৎসব জনতা এ আগুনের দৃশ্য দেখতে থাকে।
এ ব্যাপারে গ্যাস সিলিন্ডার দোকনের মালিক মঈদ্দীন বাপ্পি তিনি শহরে ছিলেন তাকে তার কর্মচারী জানেন যে, একজন লোক সিগারেট খেয়ে সিগারেটর শেষ অংশ দোকানের দিকে ছুটে মারলে আগুনের সূত্র পাত হয়। তার দোকানের ভিতরে ৩০টি বড় বোতল ও বাহিরে ১৫০ টি গ্যাসবর্তী বোতল ছিল। তাছাড়া তার পার্শ্ববর্তী শফিকের দোকানে ৩ শতাধিক বড় বোতল ছিল বলে তিনি জানা।
র্দীঘক্ষণ আগুন জ্বালার ব্যাপারে তিনি বলেন, গ্যাসের বোতল থেকে গ্যাস আস্তে আস্তে বের হওয়ার কারণে দফায় দফায় আগুন বেড়ে উঠে এবং আগুন নিবারণে সময় লাগে। তিনি এবং তার পাশ্ববর্তী শফিকের দোকানের বিষ্ফেরক লাইন্সেস আছে বলে জানান।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান, থানা পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসনিক মিটিং থাকার কারণে সিনিয়র পুলিশ অফিসারগণ চট্টগ্রামে মিটিং এ ছিলেন। এসআই প্রদীপ বলেন তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কর্তৃক জানতে পারেন।
গ্যাস বিষ্ফেরণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ২/২.৫ ঘন্টা আগুন জ্বলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ফায়াসার সার্ভিসের ২জন এবং স্থানীয় ২জন লোক আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানান।
বিস্ফেরিত এলাকা থেকে শত শত গ্যাসের বোতল বের করা হয়। পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার রণদীর দত্ত বলেন, বোতলের গ্যাস বিস্ফেরণের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ ২/২.৫ ঘন্টাকাল ব্যাপী পটিয়া,আনোয়ারা সাতকানিয়া ৪টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান প্রাথমিক ভাবে ৫ লাখ টাকার উপরে বলে জানা যায়। তবে বিষয়টি তদন্তধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। শত শত গ্যাসের সিলিন্ডার বোতল দোকানে ভিতের থাকায় দফায় দফায় আগুণ জ্বলে উঠে। আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে কালকেপন হয়। তাদের ২জন লোকসহ ৪ জন আহত হয় বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান বলেছেন কিছু দিন আগে মঈনদ্দীন বাপ্পিকে ৭০ হাজার টাকা জরিপনা করা হয়েছিল। তাদের কাছে বিস্ফোরক লাইসেন্স আছে কিনা তাদেরকে ডেকে জেনে নেয়া হবে। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছে।
আগুন চলাকালীন সময় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করেছেন আগুনে এসময় ৪টি দোকান পুড়ে যায়। অনেক টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। অধস¯্রাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বোতল এ সকল দোকান ও গোডন থেকে বের করা হয়েছে। পরবর্তীতে এদের ডেকে বিষ্ফেরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সার্টিফিকেট চেক করা হবে। সাটিফিকেট দেখাতে না পারলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
