ভ্রাতৃত্বের বন্ধুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন সমাজকে আলোকিত করবেঃ ড. অনুপম সেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটি নিউজঃঃ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, সৌভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন রচনার মাধ্যমেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীগণ সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করতে পারলে সমাজ আলোকিত হবে।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষা জীবনের মধুর স্মৃতিগুলো ধারন করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের সন্তানদের সুখময় জীবনের পথ দেখাতে হবে। একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ বির্নিমাণে নতুন প্রজন্মকে মানুষ সৃষ্টির শিক্ষায় প্রাণিত করতে হবে।
কারণ তারাই জাতির মূল্যবান সম্পদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দুটি দিকই আছে। তবে ভালোটাকে বেছে নিতে হবে। আমরা লক্ষ্য করছি কিশোররাও অপরাধ কর্মের সাথে জড়িয়ে পরছে।
এম.ই.এস-৯৯ ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বন্ধু সম্মিলন
তারা চেকপোস্টে পুলিশের উপর গুলি ছুঁড়ছে। এর কারণ সামাজিক অবক্ষয় এবং অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের গতিবিধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদাসীন।এটা সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ নেতিবাচক অশনি সংকেত।
তিনি আজ রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় আগ্রাবাদ কর্মাস কলেজ রোডস্থ ক্লাসিক ওয়ার্ল্ড কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ওমরগনি এমইএস কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী ৯৯ ব্যাচের সংগঠন এম.ই.এস-৯৯ ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বন্ধু সম্মিলন-২০১৮ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের সমমর্মী। আত্মকেন্দ্রিকতা স্বার্থপরতাকে প্রশয় দেয়। একারনে আমরা সমাজ বিচ্ছিন্নতার সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হই। এই প্রবণতা পরিহার করতে হবে।
আমি আশা করি আজকের এই বার্ষিক বন্ধু সম্মিলন এই বার্তাটি সকলের মাঝে পৌঁছে দেবে।এম.ই.এস-৯৯ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুহাম্মদ ওসমান গনির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী হিরনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, আমরা যারা শিক্ষা জীবন পেরিয়ে পেশাজীবী হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করছি তাদেরকে সমাজ মঙ্গলের জন্য অবদান রাখতে হবে।

এই সমাজের একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থান সুষ্পষ্ট করে অন্যায় অবিচার শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণমানুষের লড়া্ইয়ে সামিল হতে হবে। এই শিক্ষাটি পেয়েছি সদ্য প্রয়াত চট্টলবীর এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এনড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগে তিনি পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার এবং তাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা শুদ্ধ বিবেককে আহত করে।
এই প্রযুক্তির অবারিত ব্যবহার যাতে না হয়, সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, ছোট শিশুদের আইন প্রয়োগের নামে হাজতবাস করানো মানবতা বিরোধী। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। এই শিশুদের মনোচিকিৎসা করা যেতো এবং তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করা হলে আইনের প্রয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হতো না।
বিশেষ অতিথির বক্ত্যব্যে এম.ই.এস কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিম সিদ্দিকী বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তারা আমাদের গৌরব। তাদের এই বন্ধু সম্মিলন মধুময় স্মৃতির অনুরননে সত্য সুন্দর বিকশিত হলো।
এতে আমি পরিতৃপ্ত। সভাপতির ভাষণে মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, গতবছর সংগঠনের বন্ধু সম্মিলনে চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আজ সদ্য প্রয়াত। আজকের এই আয়োজন তাঁর প্রতি উৎসর্গিত হলো।
তিনি বন্ধু সম্মিলনকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে কিছু জনকল্যাণ মুখী উদ্যোগ নেয়া হবে বলে ঘোষনা দেন। এতে আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ছাত্রনেতা ও কোতোয়ালী থানা আওয়ামীলীগ নেতা হাসান মনসুর, সাবেক ছাত্র নেতা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সুরঞ্জিত বড়ুয়া লাভু,
ওমর গণি এম.ই.এস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সাবেক ছাত্রনেতা রাজীব দত্ত রিংকু, সঞ্জয় ভৌমিক কংকন, খোরশেদ আলম জুয়েল, ফাহিম উদ্দিন, কুতুব উদ্দিন, ওসমান গণি আলমগীর, মোসলেহ উদ্দিন শিবলী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মেজবাহ উদ্দিন মোর্শেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এরপর বর্ণাঢ্য ও জমকালো পরিবেশনায় মনোমুগ্ধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
