কোটা নিয়ে সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত: মেধাকে প্রাধান্য দেয়ার পক্ষে মত

0

সিটিনিউজ ডেস্ক:: সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা প্রায় তুলে দিয়ে মেধাকে প্রাধান্য দেয়ার পক্ষে মত দিতে যাচ্ছে এ বিষয়ে গঠন করা সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি নিয়ে জানতে উচ্চ আদালতের মতামত জানা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির একজন সদস্য।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সুপারিশ দিতে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে না পারার পর তিন মাস সময় বাড়ানো হয়।

কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন দেশে কোটার বিষয়ে প্রতিবেদন সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘কোটা নিয়ে সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। আমরা মেরিটকে (মেধা) প্রাধান্য দিয়ে অলমোস্ট (প্রায়) কোটা উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করব।

সরকারি চাকরিতে বাংলাদেশে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা আছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ, জেলা ও নারী কোটা ১০ শতাংশ করে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা পাঁচ শতাংশ এবং এক শতাংশ আছে প্রতিবন্ধী কোটা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রবর্তন করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এই কোটার সুবিধা সন্তানদেরকেও দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তা নাতি-নাতনিদেরকেও দেয়া হয়।

আর সে সময় থেকেই প্রধানত জামায়াতপন্থীরা এই কোটা বাতিলের দাবিতে একাধিকবার আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়।

তবে এবার কোনো বিশেষ কোটার কথা না বলে সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়। তারা সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছে।

ত ৮ থেকে ১১ এপ্রিল নানা ঘটনার পর ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন কোনো কোটা থাকবে না।

তবে গত ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। এখন এটি বাতিল হলে তিনি আদালত অবমাননায় পড়বেন।

তাহলে কমিটি যে কোটা তুলে দেয়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছে, তা কীভাবে সম্ভব?- এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ, এ বিষয়ে তবে কোর্টের একটা রায় রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। যদি খালি থাকে তবে খালি রাখতে হবে। এটার ব্যাপারে কোর্টের মতামত চাইব, কোর্ট যদি এটাকেও ওয়েব করে দেয় তবে কোটা থাকবে না।’

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.