সিটি নিউজ,চট্টগ্রাম : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সমাবেশের‘এ চিত্র ভিডিও ও ছবি (সমাবেশের) তুলে আমাকে দেবেন। আমি জীবনে যদি বেঁচে থাকি, একদিন না একদিন এ অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডের জন্য এ সরকারকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবো’।
‘কথা ছিলো চট্টগ্রামের লালদীঘিতে সমাবেশ করার। সেজন্য নিয়ম মেনে আবেদনও করা হয়েছে। তার পরেও সেখানে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে দেশের মানুষকে চারঘন্টা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কষ্ট দিয়েছে’।
শনিবার দুপুরে নগরের কাজির দেউড়িতে নাসিমন ভবনের সামনে নুর মোহাম্মদ সড়কের উপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম এই প্রণেতা বলেন,‘বাংলাদেশ কারও পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। এদেশের মালিক ১৬ কোটি জনগণ। দেশের মালিক দেশের জনগণ। অথচ এই জনগণকে আজ সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না’।
সরকারের উদ্দেশ্যে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘সাত দফা দাবি দিয়েছি, মেনে নিন। তা না হলে হলে আপনাদের আইনের কাঠগড়ায় উঠতে হবে।’
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, ‘ভৌতিক মামলা অনেক দিয়েছে। কিন্তু সাত দফা দাবি আদায় না করে আমরা আর ঘরে ফিরব না’।
জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের ৭ দফা দাবী মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান তিনি।
ফখরুল বলেন, ‘সরকার নিজেরা নাশকতা-সহিংসতা করে। তারপর এর দোষ চাপায় বিরোধীদলের ওপর। আমরা অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না’।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ।
সমাবেশে অংশ নিতে শনিবার সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামী আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার রাতেই চট্টগ্রামে আসেন আসম আবদুর রব ও তার স্ত্রী। শনিবার বেলা সাড়ে এগারটার সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এক হয়ে নগরীর জেল রোডে আমানত শাহ’র মাজার জিয়ারত করেন।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাছে আবেদন করেছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চট্টগ্রাম। তবে লালদীঘিতে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে ঐক্যফ্রন্টকে ২৫ শর্তে নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে পাঠায় পুলিশ।
এর আগে সিলেটে মাজার জিয়ারত ও সমাবেশের মাধ্যমে সদ্য জন্ম নেয়া এ জোটের পথ চলা শুরু হয় গত ২৪ অক্টোবর।
