সিটি নিউজ ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী চোখ খুলে কথা বলার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আজ রবিবার (৩ মার্চ) বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মিল্টন হলে চিকিৎসকরা সংবাদ কর্মীদের ব্রিফিংয়ে একথা জানানো হয়।
এ সময় হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সভাপতি সৈয়দ আলী আহসান বলেন, ওবায়দুল কাদের চোখ খুলছেন। কথা বলার চেষ্টা করছেন। পাও নাড়িয়েছেন।ডাকলে চোখ খুলে দেখছেন।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা ক্রিটিক্যাল। ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা না গেলে কিছুই বলা যাবে না।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবু নাছের টিপু সাংবাদিকদের জানান, রবিবার ফজরের নামায শেষে হঠাৎ করেই ওবায়দুল কাদেরের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়।
সেখানে আইসিইউতে নিয়ে পরে তার এনজিওগ্রাম করা হলে হার্টে চারটি চেম্বার ব্লক ধরা পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে একটিতে আমেরিকান সেনারজি কোম্পানির একটি রিং পরিয়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়া হচ্ছে।
ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা বিষয়ে দুপুর ২টার দিকে ব্রিফ করেন হাসপাতালের প্রো-ভিসি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদার ও কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী আহসান। তারা বলেন, ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
এ সময় কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী আহসান বলেন, ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড বসেছিল। এই বোর্ডের সিদ্ধান্ত, তাকে এখন যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, সিটি সর্বাত্মক। যেহেতু উনি ভেন্টিলেটরে আছেন, জীবন শঙ্কা আছে বলতে পারেন।
এই মুহূর্তে ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো যাবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না। এখন শারীরিক যে অবস্থা, তাতে আপাতত তাকে বিদেশ নেয়া সম্ভব নয়। এরপরই সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাজি হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তিন চিকিৎসক ঢাকা আসছেন।
ইতোমধ্যে হাসপাতালে এসে ওবায়দুল কাদেরকে দেখে গেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেল ৪টা ২৪ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে আসেন। প্রায় ১৮ মিনিট পর বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটের দিকে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রপতির আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তার গাড়িবহর হাসপাতাল ত্যাগ করে। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে যান।
