সিটিনিউজবিডি : চট্টগ্রাম নগরীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও টেম্পু বাহিনীর সদস্য নূরুন্নবী সোহাগকে (২৭) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোহাগকে গ্রেপ্তারে অভিযানের সময় তার অনুসারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার চান্দগাঁও থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
গুলিবিদ্ধ সোহাগকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি এলজি ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে।
নগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেন, শ্যামলী আবাসিক এলাকায় সোহাগ তার কয়েকজন অনুসারী সন্ত্রাসীকে নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সোহাগকে ধরার জন্য গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে সোহাগ পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়।
ঘটনার সময় উভয়পক্ষে তিন থেকে চার রাউণ্ড গুলি বিনিময় হয়েছে বলে উপ কমিশনার জানান।
সোহাগের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ১০-১২টি মামলা আছে বলেও জানিয়েছেন পরিতোষ ঘোষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ এলাকায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান ইসমাইল হোসেন প্রকাশ টেম্পুর ছোট ভাই সোহাগ। ২০১৪ সালের ১১ এপ্রিল পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে টেম্পু গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়।
টেম্পুর অবর্তমানে তার বাহিনী পরিচালনা করত সোহাগ। বিশাল এলাকায় দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা থেকে চাঁদা আদায় ছিল ওই বাহিনীর প্রধান কাজ। এছাড়া ডাকাতি-অপহরণ, ভাড়ায় খুনসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গেও জড়িত টেম্পুর বাহিনী।
গত শবে বরাতের রাতে ২ জুন নগরীর পাঁচলাইশ থানার মোহাম্মদপুরে আসাদুল নামে দশ বছরের এক শিশুকে নৃশংসভাবে মাথায় গুলি করে খুনের ঘটনায় সোহাগের নাম গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। সোহাগের নৃশংসতা দেখে শিউরে উঠে সাধারণ মানুষ থেকে পুলিশ পর্যন্ত।
২ জুন রাত ৮টা ২০ মিনিটে মোহাম্মদপুরে মোবারক আলী সড়কের টুনু মুন্সীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটেছিল।
খুনের শিকার শিশু আসাদুল ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার দামুড়া গ্রামের প্রয়াত মোক্তার মিয়ার ছেলে। নগরীর মোহাম্মদপুরের মোবারক আলী সড়কে টুনু মুন্সীর বাড়ির সামনে বাবর কলোনিতে তার চাচার মো. সুমনের বাসা। একই এলাকায় সুমনের একটি চা দোকান আছে।
সুমন জানিয়েছিলেন, চারদিন আগে আসাদুলকে বাড়ি থেকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন সুমন। তার ইচ্ছা ছিল আসাদুলকে আগামী বছর স্থানীয় স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করে দেবেন।
রাত সোয়া ৮টার দিকে আসাদুল তার দোকান থেকে মোমবাতি কেনার জন্য পাশের আরেকটি দোকানে যাচ্ছিল। দেলোয়ার শেখ নামে একজনের অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী ও প্লাস্টিকের ড্রাম বিক্রির দোকানের সামনে আসাদুল গুলিবিদ্ধ হয়।
দোকানদার দেলোয়ার শেখের সঙ্গে সোহাগের শত্রুতা ছিল। আগের বছর শবে মেরাজের দিন সোহাগের ক্যাডারেরা দেলোয়ার শেখের দোকানের পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে রেখে চাঁদা দাবি করে।
দেলোয়ার শেখ বিষয়টি স্থানীয় সূর্যোদয় ক্লাবকে অবহিত করে। সেদিন এলাকায় খাজা বাবার ওরশ মাহফিল ছিল। ওই ক্লাবের সদস্যরা সোহাগের ক্যাডার বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে ইউনিলিভার সোসাইটির সামনে এক দফা গোলাগুলি হয়। এ নিয়ে সোহাগের ক্যাডারেরা দেলোয়ার শেখের উপর ক্ষিপ্ত হয়।
আসাদুলকে খুনের সপ্তাহখানেক আগেও সোহাগের ক্যাডারেরা দেলোয়ার শেখের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। চাঁদা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তারা দেলোয়ার শেখকে খুন করতে এসেছিল এবং মিস ফায়ারে শিশু আসাদুল খুন হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
