চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ, নিহত ৭ আহত ২৫

0

সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম মহানগরীর পাথরঘাটা ব্রিক ফিল্ড রোডে গ্যাস লাইনের রাইজার বিস্ফোরণে শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছে। গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে দুই ভবনের দুটি দেওয়াল ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ২০ জন। গুরুতর আহত ১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। নিহতের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ৩ জন নারী ও ১জন শিশু রয়েছে।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি ৫ সদস্য ও পুলিশ প্রশাসন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা ও সিটি মেয়র ১ লাখ টাকা করে নিহতদের পরিবারকে দেওয়ার ঘোষনা দেন। এদিকে বিস্ফোরক পরিদপ্তর বলেছে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

আজ রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনের (বড়ুয়া ভবন) দেওয়াল ধসে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভবনের দেয়ালের একাংশ ধসে পড়ে বিস্ফোরণে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের কারনে আরো ২টি ভবনের দেওয়াল ধসে পড়ে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসীন বলেন, পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই ভবনের দু’টি দেয়াল ধসে পড়ে। এ সময় আহতাবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ১৬ জনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সেখানে ৭ জন মারা গেছেন। নন্দনকানন, চন্দনপুরা ও আগ্রাবাদ ৩ স্টেশনের ১০ গাড়ি উদ্ধার কাজ শুরু করে। গ্যাস লাইন পুরনো ছিল। লিকেজ, নাশকতা, কেমিক্যাল আছে কিনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে ২টি আবাসিক ভবনের প্রাচীর ও সড়কের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের দোতলা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, জহরলাল হাজারী, শৈবাল দাশ সুমন, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ ।

মেয়র বলেন, নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ১লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের যাবতীয় খরচ সিটি করপোরেশন বহন করবে। এতে ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস, আমাদের দুজন কাউন্সিলর যথেষ্ট কষ্ট করেছে। জনগণকে সচেতন হতে হবে। একটি দুর্ঘটনা অপূরণীয় ক্ষতি। সব কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভবন মালিক ও ভাড়াটিয়াদের গ্যাস, বিদ্যুতের লাইনে লিকেজ আছে কিনা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। ব্যবহারকারীরা সচেতন হলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

মেয়র বলেন, শহরটা পরিকল্পিত না। সিডিএ নকশা অনুমোদন করে। নকশা অনুযায়ী ভবন হচ্ছে না। নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল সেবা সংস্থার নেই। চসিক, ফায়ার সার্ভিস, সিডিএ, জেলা প্রশাসন, কর্ণফুলী গ্যাসের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। এসময় শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান মেয়র।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের পর আহতাবস্থায় প্রথমে ১২ জনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে ৭ জনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ, দুইজন নারী ও একজন শিশু।

জানা গেছে, বিস্ফোরণে ওই ভবনের নিচতলার দেয়াল ও সীমানাপ্রাচীর ধসে রাস্তার উপর পড়লে পথচারী ও চলতিপথের যাত্রীরাও আহত হন। বড়ুয়া বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি উল্টো দিকের জসীম বিল্ডিংয়ের নিচতলার দোকানও বিস্ফোরণের ধাক্কায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, বড়ুয়া বিল্ডিংয়ের নিচতলায় সীমানা প্রাচীরের পাশেই ওই বাড়ির গ্যাস রাইজার, বিস্ফোরণটি সেখানেই হয়েছে। হয়ত রাইজারে কোনো সমস্যা ছিল কিংবা লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে জমে গিয়েছিল। সকালে বাসায় রান্না করার সময় বা বাইরে থেকে কারও ফেলা সিগারেটের আগুন থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে

এদিকে নিহতদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের একজন কক্সবাজারের উখিয়ার নুরুল ইসলাম (৩১) ও অন্যজন হলেন অ্যানি বড়ুয়া (৪০)। অ্যানি পটিয়ার মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। পাঁচ তলা ওই ভবনের চতুর্থ তলার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক অঞ্জন কান্তি দাশ এ প্রতিবেদককে জানান, সকালে বিকট বিস্ফোরণের সঙ্গে পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে। তার বাসার জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং অনেক জিনিসপত্র মেঝেতে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, কী ঘটেছে বোঝার জন্য আমি নিচে নামার সময় দেখি দোতলার দরজা জানালাও ভেঙে গেছে বিস্ফোরণের ধাক্কায়। ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইসমাইল বালি বলেন, ব্রিকফিল্ড রোড সকাল থেকেই ব্যস্ত থাকে। বড়ুয়া বিল্ডিংয়ে যখন বিস্ফোরণ হয় তখন ১৬ ফুট চওড়া ওই রাস্তায় প্রচুর মানুষ আর রিক্সা ছিল। বিস্ফোরণের পর ভবনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে রাস্তাায় মানুষের উপর পড়ে। আমরা পিকআপ ভ্যানে করে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি, তাদের মধ্যে পথচারীও ছিল।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.