বঙ্গবন্ধুর খুনির দোসর বানাতে তারা ওঠে পড়ে লেগেছেঃ নাছির

0

সিটি নিউজঃ  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, একটি মহল আমাকে বঙ্গবন্ধুর খুনির দোসর বানাতে ওঠে পড়ে লেগেছে। তিনি বলেন, মেয়রের পদ বড় নয়, রাজনীতিটাই বড়। আর মেয়র পদ না পেয়ে কোনোভাবেই হতাশ, বিক্ষুব্ধ বা নিরাশ নই। তবে একটি বিষয় আমাকে কষ্ট দিয়েছে। যে সংগঠনের জন্য জীবন-যৌবন দিয়েছি, তারাই আমাকে বঙ্গবন্ধুর খুনির দোসর বানাতে ওঠে পড়ে লেগেছে।

অথচ আমি প্রথম পরিকল্পনা করে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল (অব) রশিদের সভায় হামলা চালিয়েছিলাম। ফ্রিডম পার্টির নেতাকর্মীদের খুঁজে বের করে চট্টগ্রাম থেকে তাড়িয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ‘৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে সর্বপ্রথম আমরা ৫-৬ জন মিলে মিছিল করেছিলাম।

আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নিজের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, কেউ যদি বলতেন মেয়র হতে চাই তাহলে আমি ছেড়ে দিতাম। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে– আমরা অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছি। আরেকজন আ জ ম নাছির তৈরি করতে অনেক বছর সময় লাগবে।

সততাকে বড় প্রাপ্তি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আমার বড় প্রাপ্তি হচ্ছে সততা। স্বচ্ছতার মধ্যে চসিকের দায়িত্ব পালন করেছি। চট্টগ্রামবাসী এতো ভালোবাসেন এটা আমার বোধগম্য ছিলো না। মানুষের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা আছে। আমাকে কাজ পাগল বলা যায়। আমার বাবাও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। খেলাধুলা আমার রক্তের সঙ্গে মিশে আছে।

চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ২৫ বছরে ২৫৫০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অনেক প্রকল্প দেওয়ার কারণে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি কাজ বাস্তবায়ন করেছি। আরও অনেক প্রকল্পের কাজ বাকি আছে। এলইডি লাইটের আওতায় আসছে পুরো শহরে। আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, এখানে সড়কবাতি ছিলো না। অন্ধকার থাকতো। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর লাইটিংয়ের আওতায় এনেছি।

প্রসঙ্গত, চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কর্মীরা একটি ছবি প্রকাশ করেন ফেসবুকে। এই ছবি প্রকাশ করে প্রচার চালানো হয় যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেয়র নাছিরের দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। মেয়র নাছির মনে করেন, তাকে মনোনয়ন না দেয়ার পেছনে এসব অপপ্রচার কাজ করেছে।

তিনি বলেন, যে ছবিটি দেখানো হয়েছে সেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমার দুঃসময়ে পাশে থাকা আকরাম খানের আহ্বানে অক্সিজেন এলাকায় একটি দোকান উদ্বোধনে গিয়েছিলাম। অপপ্রচারকারীরা যে বঙ্গবন্ধুর খুনির ভাইয়ের ছবি দাবি করছে তাকে আমি চিনিও না, কোনো দিন দেখিওনি। হয়তো আকরাম খান বলতে পারবে।

তিনি বলেন, মেয়র পদের মনোনয়ন আটকে দেওয়ার জন্য এ ধরনের ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া খুবই দুঃখজনক। কারও মেয়র পদ লাগলে আমাকে সরাসরি বলতে পারতো। প্রয়োজনে আমি মনোনয়ন সংগ্রহ করতাম না। কিন্তু এ রকম এ অপপ্রচার কিছুতেই কাম্য নয়। যার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি শতভাগ চ্যালেঞ্জ করে বলছি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.