সিটি নিউজ চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোট পড়ার হার কম হলেও বড় জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। চসিক নির্বাচনে ৪১ ওয়ার্ডে ৭৩৫ টি কেন্দ্রের ৭৩৩ কেন্দ্রের ফলাফলে এম রেজাউল করিম চৌধুরী পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২২৮ এবং বিএনপি প্রার্থী ডা.শাহাদাত হোসেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান। অর্থাৎ ধানের শীষের চেয়ে ৩ লাখ সাড়ে ১৭ হাজার চেয়ে বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হন।
মেয়র ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও জয়জয়কার। কয়েকটি ছাড়া সব ওয়ার্ডেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। তবে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরাও জয়ের মুখ দেখেছে।
চট্টগ্রাম সিটিতে মেয়র পদে ৭ জন, ১৪ সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী রয়েছেন ৫৭ জন। সাধারণ ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩৯ ওয়ার্ডে। ১৮ নং ওয়ার্ডে হারুনুর রশিদ বিনা প্রতিদ্বনিদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছে। ৩১ নং আলকরণ ওয়ার্ডে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে ওই ওয়ার্ডে মেয়র ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে। ৩৯ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১৬৮ জন প্রার্থী।
বুধবার রাতে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম এ ফলাফল ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। বহুল প্রত্যাশিত এ নির্বাচনেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। এদের মধ্যে নারী ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন। ভোট পড়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৩ যা মোট ভোটারের ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এর আগে বুধবার সকাল আটটা থেকে চট্টগ্রাম সিটিতে একযোগে বিকাল চারটা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। কেন্দ্র দখল, কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বহুল প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
এবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটিতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। ইভিএমে ভোট দিতে গিয়েও বিড়ম্বনায় পড়েন ভোটাররা।ভোট উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটিতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় ভোট। স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যেই এ সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অনেকেই আহত হন। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। বিএনপির দাবি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মারধর করে তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে নির্বাচন অফিসে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এক কথায় নির্বাচনের নামে আরেকটি তামাশা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দাবি, মারধর তো পরের কথা বিএনপির এজেন্টরা কেন্দ্রেই আসেনি। বিএনপি যে অভিযোগ করেছে তা অমূলক ও মিথ্যা। বুধবার সকাল পৌনে ৯টায় নগরীর এখলাসুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ভোট দেন। এরপর সারাদিন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।
সকাল ১০টায় নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের টির্চাস ট্রেডিং কলেজের প্রশাসনিক ভবন কেন্দ্র ভোট দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা.শাহাদাত হোসেন। এর আগে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিনিধি দল ভোটকেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ সংবলিত চিঠি সিইসিকে দেয়।
এদিকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য প্রার্থীরাও ভোটের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন ছাড়া নির্বাচনে অন্য ৫ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর পেয়েছেন ৪৬৫৩ ভোট, মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন পেয়েছেন ২১২৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতি প্রতীকে খোকন চৌধুরী পেয়েছেন ৮৮৫ ভোট, চেয়ার প্রতীকে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ পেয়েছেন ১১০৯ ভোট ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৯৮০ভোট।
গত বছর ২৯ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলে নির্বাচনের মাত্র নয়দিন আগে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) কারণে স্থগিত হয় চসিক নির্বাচন। দীর্ঘ দশ মাস চসিক নির্বাচনের অনুষ্টিত হয়েছে। চার ওয়ার্ডে প্রার্থীর মৃত্যুতে ওয়ার্ডগুলোতে উপ নির্বাচনের জন্য নতুন করে তফসিল ঘোষণার
প্রসঙ্গত, চসিক নির্বাচনে পূর্বে নির্ধারিত ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার হাজার ৮৮৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করেন ৭৩৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, চার হাজার ৮৮৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও নয় হাজার ৭৭২ পোলিং কর্মকর্তা।
সিটি নিউজ/জিএস
