১৫ দিনের টার্গেটে চট্টগ্রাম এসে ধরাঃ পেশাদার চোর শইক্কা
সিটি নিউজঃ চোর বাসায় ঢুকে মূল্যবান জিনিষপত্র চুরি করার পাশাপাশি রান্নাঘরে ঢুকে ভাত তরকারী থাকলে তাও খেয়ে নেয়। পেশাদার চোর শইক্কা ১৫ দিনের টার্গেটে চট্টগ্রামে আসে। এক এক জেলায় চুরির উদ্দেশ্যে যায় ১৫ দিনের টার্গেট নিয়ে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের লাভ লেইনের একটি বাসায় চুরির ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়। মামলার তদন্তে ধরা পড়ে পেশাদার চোর শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শইক্কা।
আজ রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নগরীর স্টেশন রোড় থেকে গ্রেফতার করে শফিকুল ইসলাম নামে ওই চোরকে। নাম শফিকুল ইসলমা হলেও শইক্কা চোর নামেই সে পরিচিত।
কোতোয়ালী পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জের বালু ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামই চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ চোর বলে নিশ্চিত হয়েছে। ১৫ দিনের টার্গেট নিয়ে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ায় শফিকুল। খালি বাসায় ঢুকে স্বর্ণালংকার-মোবাইল সেট-ল্যাপটপ চুরি করে বিক্রি করে হকারদের কাছে। আবার চুরি করতে বাসায় ঢুকলে সেখানেই খাওয়া-দাওয়াও সেরে নেয় এই চোর।
এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নগরীর লাভলেইন এলাকার একটি বাসায় চুরির জন্য ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে শইক্কা। অপর একটি বাসায় ঢুকে মালামাল চুরিও সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে। গত কয়েকদিন নগরীর অন্তত ৩টি বাসায় একইভাবে চুরি করেছে এই চোর। গত বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) লাভ লেইনের ওই বাসা থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলো শইক্কা।
রবিবার নগরীর স্টেশন রোড এলাকা থেকে ইয়াবাসহ শফিকুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদে শফিকুল স্বীকার করে মূলত সেই চোর শইক্ক্যা। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে চোরাই পন্যের ক্রেতা এবং কথিত হকার্স নেতা আনোয়ারকে।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘এই চোর চুরি করার সময় সোনা কিনা চেক করে নেয়। চেক করে যেগুলো সোনা পায় সেগুলো নিয়ে যায়।’ তারা আগুনে পুড়িয়ে, দাঁতে কামড়িয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে সোনাগুলো চেক করে নেয়।
গ্রেফতার শইক্ক্যা জানায়, পারিবারিকভাবে তারা সুনামগঞ্জে বালু ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত। ভাইসহ পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য বালু ব্যবসায় সম্পৃক্ত। কিন্তু হঠাৎ করে সে চুরি এবং খুচরা ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। খালি বাসায় চুরি করার সুযোগ পেলেই সে আগে ওখানে ভাতসহ অন্যান্য খাবার খেয়ে নেয়। এরপর ধীরে-সুস্থে দামি মালামাল চুরি করে।
গ্রেফতারকৃত দুইজন হলোঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রঃ সফিকুল প্রঃ সকি প্রঃ শইক্কা (৩১), পিতা-মোঃ আক্তার হোসেন প্রঃ আক্তার উদ্দিন, মাতা-রাবেয়া খাতুন স্থায়ী : কামড়াবন্দ, আবু বক্কর মেম্বারের বাড়ি, জলিল কসাইয়ের বাড়ীর পূর্ব পাশে, পোঃ বাতাঘাট ইউনিয়ন, গ্রাম-কামড়াবন্দ, থানা-তাহিরপুর, জেলা-সুনামগঞ্জ ও মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫), পিতা-মৃত আহম্মদ হোসেন, মাতা-আনোয়ারা বেগম, সাং-লালপুর, দর্জি বাড়ি, ওয়ার্ড নং-০৭, বিষ্ণুপুর ইউপি, পোঃ-লালপুর বাজার, থানা-চাঁদপুর।
শফিকুল ইসলাম ওরফে শইক্কা চোর বলেন, ‘আমি কোন বাসায় চুরি করতে ঢুকেই প্রথমে ভাত খাই। তারপর ধীরে ধীরে চুরি করি।’ তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ৩টি মামলা রয়েছে। এর আগেও পুলিশ শইক্ক্যাকে দু’বার গ্রেফতার করেছিল।
সিটি নিউজ/ডিটি
