অর্থবাণিজ্য ডেস্ক: কর্পোরেট সোশাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) বা সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে মালয়েশিয়ান পণ্য প্রদর্শনী মেলা ‘৪র্থ শোকেস মালয়েশিয়াতে’ অংশ নিয়েছে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেড।
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা, দুর্যোগে সহায়তা ও তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবির মার্কেট অপারেশন ম্যানেজার রেদওয়ানুর রহমান বলেন, একটি দায়িত্বশীল মুঠোফোন সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রবি সেবা নীতির মাধ্যমে গ্রাহকদের সংযুক্ত রাখতে সচেষ্ট। রবি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন এবং সামাজিক উন্নয়ন এবং যথোপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। রবির লক্ষ্য সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে জীবনমানের উন্নয়ন।
তিনি বলেন, দেশ জুড়ে আমাদের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে এ মেলায় অংশ নিয়েছি। পাশাপাশি এখান থেকে মেলায় আগত দর্শনার্থীরা আমাদের নিত্য নতুন সেবা সম্পর্কে ধারণা পাবে।
রবি তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রমের আওতায় যে কাজ করছে- তার মধ্যে অন্যতম হলো 3 Pillar কার্যক্রম- আইসিটি এডুকেশন, এনভারমেন্ট ও হেলথ।
আইসিটি এডুকেশনের আওতায় রবি দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরের গ্রন্থাগারগুলোতে ইন্টারনেট কর্নার স্থাপন করেছে। ইন্টারনেট কর্নারসমুহ দেশের ছাত্রছাত্রীদের, বিশেষ করে যারা রাজধানী ঢাকার বাইরে থাকে তাদের জন্য ইন্টারনেটের দ্বার উন্মোচন করেছে। এছাড়া সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি আবাসিক হল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সবগুলো রুটের পরিবহনে ওয়াই-ফাই সেবা প্রাদান করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি করেছে রবি। ঢাকা কলেজেও ওয়াই-ফাই সেবা চালু করেছে রবি। এ জন্য শিক্ষার্থীদের রবি সংযোগ ব্যবহার করতে হবে। শুধু শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশে এ ইন্টারনেট পরিষেবাগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে সাজানো হবে।
পরিবেশ বিষয়ক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ‘রবির আলো’। রবির আলো কার্যক্রমটি রবি চালু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য, যারা কেরোসিন বা মোমের বাতি দিয়ে আলোর চাহিদা মেটায় এবং বিদ্যুতের অভাবে মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারতো না। এর আওতায় কুড়িগ্রাম ও বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৫৯০টি পরিবারকে সৌর-প্যানেল সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে রবির একটি পদক্ষেপ হলো ওয়াটার এইড এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশজুড়ে প্রধান রেলওয়ে স্টেশনসমুহে বিশুদ্ধ খাবার পানির বন্দোবস্ত করা। বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় ঢাকার কমলাপুর স্টেশন ও বিমানবন্দর স্টেশনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ স্টেশনে পানি শোধনাগার স্থাপন করেছে। মান বজায় রেখে শোধনাগারসমূহ ঘণ্টায় ৫ হাজার লিটার পানি শোধনে সক্ষম।
মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বাড়াতে সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি স্টারের সাথে একটি চুক্তি করেছে রবি। এর মাধ্যমে রবি ও ডেইলি স্টার যৌথভাবে সারা দেশের মনোনীত ১০০টি স্কুলের ২০০ জন শিক্ষক ইনটেনসিভ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং সেশনে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত যুবসমাজের দক্ষতা বাড়াতে ‘গড়ি নিজের ভবিষ্যৎ’ নামে চলছে বেসরকারি সংস্থা ইউসেপের সাথে রবির আরেকটি প্রকল্প।
১৫ মাসব্যাপী এই দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে, চট্টগ্রামের ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীকে আরএমজি (রেডি-মেইড গার্মেন্টস) ইলেক্ট্রনিকস এবং মোবাইল সার্ভিসিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইউসেপ প্রশিক্ষণ কর্মসূচী শেষে চাকুরিপ্রাপ্তিতে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে সনদপত্র প্রদানেরও ব্যবস্থা করবে।
এ প্রকল্প সর্ম্পকে রবির কর্পোরেট রেসপন্সিবিলিটির কন্সালট্যান্ট মহিউদ্দিন বাবর বলেন, রবি বরাবরই দেশের যুবসমাজকে তাদের আপন শক্তিতে জ্বলে উঠতে সাহায্য করতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত যুবসমাজকে সহযোগিতা করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। আমি বিশ্বাস করি, ইউসেপের বিশেষজ্ঞদের তত্তাবধানে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। আর এটাই “গড়ি নিজের ভবিষ্যৎ” এর লক্ষ্য।
