চট্রগ্রাম : তরুণ প্রজন্মই সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার উল্লেখ করে তাদের স্বপ্ন দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি।
রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তব্য দেন সমাবর্তন বক্তা ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেলক্ষ পূরণে আমাদের তরুণ সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ এ তরুণ প্রজন্মই জাতির প্রাণশক্তি, সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাদের অমিত সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞানবিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে। তাদের স্বপ্ন দেখাতে হবে। কারণ স্বপ্ন না থাকলে সাফল্য আসেনা। বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয়, স্যানিটেশন, কৃষি, তথ্য প্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তবে এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সামাজিক শৃঙ্খলা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে হবে। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বাধাগ্রস্থ না হয় তা সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যে আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে থাকতে হবে নিরলস প্রচেষ্টা, আত্মসমালোচনা ও সহযোগিতা। থাকতে হবে কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ।’
জাতির পিতার ১৯৭৪ সালের দেয়া ১৫ ডিসেম্বর দেশবাসীর উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতির পিতা বলেছিলেন, আমাদের সকলকে আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম এবং আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আপনি আপনার কর্তব্য দেশের ও দেশের জনগণের প্রতি কতটা পালন করেছেন সেটাই বড় কথা।’
আব্দুল হামিদ আরো বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সবাই সচেষ্ট হবেন। দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে অবদান রাখবেন।’
উচ্চ শিক্ষা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গবেষণা উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। কারণ গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় নতুন জ্ঞানের যা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে অবদান রাখে। সময়ের চাহিদা বিবেচনায় রেখে সরকার দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্টান বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতাধিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে উচ্চশিক্ষার পরিধিও আজ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে আমাদের অবিরাম তৎপরতা চালাতে হবে। বাড়াবে হবে গবেষণার ক্ষেত্রও।’
১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। চলার পথের পঞ্চাশ বছরে এর আগে তিনটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়, যার সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর। রোববার অনুষ্ঠিত চতুর্থ সমাবর্তনে সাত সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তব্যে প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান দেশে ধর্মের নামে উগ্র পন্থা সহ কিছু কিছু বিষয় সুস্থ জ্ঞান চর্চ্চার অন্তরায় উল্লেখ করে বলেন, পরমত সহ্য করতে হবে। তিনি পেশী শক্তির বদলে যুক্তির আশ্রয় নেয়ার আহবান জানান।
এবারের সমাবর্তনে ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শিক্ষা সমাপনকারী ৭ হাজার ১ শ ৯৪ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়, যার মধ্যে চ্যান্সেলর পদক পাচ্ছেন নয়জন শিক্ষার্থী। এছাড়া ২৫ জন পি এইচডি ও ১৩ জন এমফিল রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে সনদ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি।
