চট্রগ্রামের বইমেলায় একুশের আমেজ

0

জুয়েল, সিটিনিউজবিডি: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ক্ষণে ক্ষণে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির সুর যখন করুণভাবে মাইকে বাজছিলো। তখন শহীদ মিনার ও মুসলিম ইনস্টিটিউট হল চত্বরের বইমেলা জুড়েই যেনো বিরাজ করছিলো একুশের চেতনা!

শনিবার সকাল থেকেই মুসলিম ইনস্টিটিউট হল চত্বর আর ডিসি হিল দু’প্রাঙ্গণে ছিল পাঠকদের উপচে পড়া ভিড়। বর্ণমালা লেখা বাহারি কাপড়, কালোশাড়ি, পাঞ্জাবি ও ফতুয়ায় একুশের সাজে সজ্জিত হয়ে ছুটে আসছেন বইপ্রেমী পাঠকরা। একুশের চেতনায় প্রাণ ফিরে পায় বইমেলা।

প্রথম দিকে উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা গড়াতেই বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে বইমেলা প্রাঙ্গণ। শহীদ মিনারের ভিড় কমে তা মেলায় চলে আসে। রোদ ও গরম উপেক্ষা করে দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন স্টল। যার মধ্যে ফুটে উঠেছিল ভাষা আন্দোলন তথা একুশের উদ্দীপনা। বিক্রেতারও বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এ দিনটির জন্য। এই ভিড়কে বিড়ম্বনা ভাবছেন না তারা।

ছবি- মোহাম্মদ হানিফ/ সিটিনিউজবিডি
ছবি- মোহাম্মদ হানিফ/ সিটিনিউজবিডি

ডিসি হিল চত্বরে কথা হয় একুশে প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আদনানের সাথে। তিনি বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারী থেকে মেলা শুরু হলেও বিক্রি তেমন ছিলোনা। তবে গতকাল থেকে সে চিত্র একদম পাল্টে গেছে। দুপুর পর্যন্ত বেশ ভালোই বই বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ছোটদের বই, সায়েন্স ফিকশন বেশি বিক্রি হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয়োজনে ১৭ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নগরীর শহীদ মিনার ও মুসলিম ইনস্টিটিউট হল চত্বর জুড়ে চলছে একুশে বইমেলা। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো এবারই প্রথমবারের মত ঢাকার ২০টি প্রকাশনী মেলায় অংশগ্রহন করছে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকার কোনো প্রকাশনী সরাসরি মেলায় আসেনি বরং চট্টগ্রামের বিক্রেতারা বিভিন্ন প্রকাশনীর নামে স্টল বুকিং নিয়ে ঢাকা থেকে বই এনে বিক্রি করছেন। দু’একটি বাদে প্রকাশনী গুলোর নিজেদের কোনো বই নেই। প্রায় সব ধরনের বই বিক্রি হচ্ছে। মুলত স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রকরা বই তারা বিক্রি করছেন বলে জানালেন বিক্রেতারা।

ঢাকার একুশে বইমেলায় লেখক ছাড়া মেলা কল্পনাও করা যায় না। তবে চট্টগ্রামে মেলায় লেখকদের পাওয়া সৌভাগ্যের কথা বলতে হবে। পূর্বা প্রকাশনে গিয়ে কথা হলো লেখক ও প্রকাশক আলমগীর শিপনের সাথে। তিনি জানালেন মেলায় তার চারটি বই এসেছে। উপন্যাস জলছবি ও নিরালোকে নিরুদ্দেশ এবং দুটি ছোটদের বই। মেলার সার্বিক পরিবেশটা বেশ গোছালো হলেও, পাঠকের উপস্থিতি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আগে খুব ছোট্ট পরিসরে মেলা হতো, কিন্তু পাঠক পাওয়া যেত। কিন্তু এবার তা একেবারেই নেই। গতকাল আর আজ যা হবে তাই।’

এছাড়া চট্টগ্রামের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাতিঘর পাঠকদের কাছে পরিচিত। তবে প্রথমবারের মত বই মেলায় তারা, তাই স্টলে বেশ ভির। বাতিঘরের ব্যবস্থাপক তারেক জানালেন, গতকাল থেকে বিক্রি বেড়েছে। এমনিতে প্রতিদিন দুই থেকে তিনশ বই বিক্রি হলেও আজ দুপুরের আগেই আড়াইশ বই বিক্রি হয়েছে। মেলা উপলক্ষে এবার ‘বাতিঘর’ ১৫টি বই প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি।

চট্রগ্রাম নগরীর নজরুল স্কয়ার (ডিসি হিল) প্রাঙ্গণে বইমেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘অবসর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর’ পরিবেশনায় আবৃত্তির অনুষ্ঠান। বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাকছে দলীয় ও একক সঙ্গীত এবং দলীয় ও একক নৃত্য। বিকেল ৫টায় একুশের কথামালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বরেণ্য সাহিত্যিক ও একুশে পদক প্রাপ্ত লেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়া। সভাপতিত্ব করবেন শিল্পী অরুণ চন্দ্র বণিক।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.